দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জনগণের নাভিশ্বাস উঠে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একদিকে চাল-ডাল-তেলসহ সব ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জনগণের চরম ভোগান্তি। কিন্তু সরকার এসব ভোগান্তি নিরসনের পরিবর্তে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে জনগণের সঙ্গে তামাশা করছে। সরকারের মন্ত্রীরা বলছে, মোবাইল চার্জ দেওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সংকট। গ্রামে লম্বা পুল হওয়ার কারণে এই পুল ভেঙে গেলে মেরামত করতে সময় লাগে, এজন্য লোডশেডিং হচ্ছে। নিঃসন্দেহে মন্ত্রীদের এমন কথাবার্তা জনগণের সঙ্গে তামাশা করা ছাড়া কিছুই নয়।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, গণভোটের গণরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সরকার পাশ কাটিয়ে যেতে চাচ্ছে। একইভাবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ বিদ্যমান জনদুর্ভোগ পতিত আওয়ামী সরকারের ১৭ বছরের জঞ্জাল দাবি করে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাচ্ছে। অথচ বিদ্যমান এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কিংবা স্বল্পমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না।
অবিলম্বে তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করে সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের লড়াই আমাদের সংসদে এবং সংসদের বাইরে চালাতে হবে। সরকার যদি গণভোটের গণরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার দাবি সংসদে মেনে নেয় এবং জনগণের ভোগান্তি নিরসনে কাজ করে তবে বিরোধীদল সরকারকে সহযোগিতা করবে। কিন্তু সরকার যদি গণভোটের গণরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার দাবি সংসদে মেনে না নেয় এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটতে থাকে, তবে জনগণের দাবি আদায় রাজপথেই হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সার্বিক প্রস্তুতি ও ভূমিকা রাখতে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির এবং অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি এবং ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক নুর নবী মানিক, আব্দুস সালাম, শেখ শরিফ উদ্দিন আহমদ, ড. মোবারক হোসাইন, আব্দুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, সৈয়দ সিরাজুল হক, শাহীন আহমেদ খান, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী অফিস সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান প্রমুখ।
এমএসআই/আরএফ
