অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ বিষয়ক নীতিমালা বাতিল করে পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা বাতিল করে সরকার প্রকারান্তরে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা বাতিলের মধ্য দিয়ে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ওষুধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জনগণের স্বার্থের পরিবর্তে সরকার ওষুধ সিন্ডিকেটের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের ওষুধশিল্প এখন বড় একটি অর্থনৈতিক খাত। দেশে প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ উৎপাদিত হলেও সাধারণ মানুষকে ওষুধ কিনতে গিয়ে উচ্চমূল্য দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা থাকা জরুরি।
ফুয়াদ বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের পরিপত্রে ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ প্রণয়ন করে তালিকাটি ২৯৭টিতে উন্নীত করে। কিন্তু বর্তমান সরকার গত ৩ আগস্ট এসব নীতিমালা বাতিল করে পুরোনো কাঠামোয় ফিরে গেছে।
তিনি বলেন, জনস্বার্থে নেওয়া একটি নীতিমালা বাতিল করে সরকার জনগণের পকেটের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর পথ তৈরি করেছে। এটি সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সরকারের ঘোষিত সংস্কার ও অঙ্গীকারের সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। জনগণের পকেট কাটার এই নীতি বাতিল করে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের নীতি পুনর্বহাল করতে হবে।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর দেশের ওষুধবাজারে ভারতের মতো বড় উৎপাদনকারী দেশের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার, ওষুধশিল্পের মালিক ও চিকিৎসকদের জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া হয়েছে।
একই জেনেরিকের বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধের নাম ও দামের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরে ফুয়াদ বলেন, দেশে ব্র্যান্ডের নামে বিপুলসংখ্যক ওষুধ বাজারজাত হচ্ছে। একই জেনেরিকের ওষুধ বিভিন্ন ব্র্যান্ড নামে বিক্রি হওয়ায় রোগী ও সাধারণ ভোক্তারা বিভ্রান্ত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, একই জেনেরিকের ওষুধকে ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করার প্রবণতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে ডাক্তারদের প্রভাবিত করতে ওষুধ কোম্পানিগুলোর উপহার ও প্রণোদনা দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে– বাতিল করা ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ ও ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ পুনর্বহাল, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কার্যকর মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু এবং একই জেনেরিকের ওষুধের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক ব্র্যান্ড বৈচিত্র্য ও মূল্যবৈষম্য কমানো।
এছাড়া ওষুধ কোম্পানিগুলোর চিকিৎসকদের প্রভাবিত করতে উপহার ও অনৈতিক প্রণোদনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা, সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সহজলভ্য করা, দেশীয় ওষুধশিল্পের সক্ষমতা ও নতুন ওষুধ উদ্ভাবন সম্পর্কে জনগণকে তথ্য দিতে দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রচারের সুযোগ তৈরি এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী সময়ে বিদেশি বাজারের প্রতিযোগিতা থেকে দেশীয় ওষুধশিল্পকে সুরক্ষা ও সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষার উপকরণ, কেবল ব্যবসার পণ্য নয়। তাই ওষুধনীতির কেন্দ্রে থাকতে হবে রোগী ও সাধারণ মানুষকে। সরকারকে ওষুধ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নয়, জনগণের স্বার্থে অবস্থান নিতে হবে।
ওষুধশিল্পের মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দয়া করে মালিকপক্ষকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করাবেন না। ব্যবসার স্বার্থ থাকবে, কিন্তু তার আগে মানুষের জীবন ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জেইউ/বিআরইউ
