বিজ্ঞাপন

জনপ্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান চরমোনাই পীরের

জনপ্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান চরমোনাই পীরের

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সরকারের প্রতি মানুষের সহযোগিতা থাকবে না।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আমরা শরীয়াহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কাজ করছি। দীর্ঘদিনের পথচলায় আমাদের কেউ কেউ হতাশা ব্যক্ত করেন- কেন এখনো আমরা সফল হইনি? তাদের বলবো, ‘মেঘ দেখে তোরা করিসনে ভয়, আড়ালে তাহার সূর্য হাসে।’

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, মুমিনদের ভয় ও চিন্তার কারণ নেই, তারাই বিজয়ী হবে। তাই ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর রহমতকে পুঁজি করে কাজ করে যেতে হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেশে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে লাখো মানুষ জীবন দিয়েছেন। কিন্তু যারা বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় ছিলেন, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন।

নারায়ণগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের যুব সংগঠনের এক নেতাকে হত্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গতকাল রাতে নারায়ণগঞ্জে আমাদের যুব আন্দোলনের একটি তরতাজা প্রাণকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে যেভাবে গুলি করে এ দেশের মেধাবীদের হত্যা করা হয়েছিল, সেই শব্দ এখনো মানুষের কানে ধ্বনিত হচ্ছে। যারা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করবে, তাদের পরিণতিও পতিত স্বৈরাচারের মতো হবে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ যারা বিভিন্ন সময়ে দেশ পরিচালনা করেছে, তাদের নীতি-আদর্শের মাধ্যমে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মায়েদের সন্তানহারা কান্না বন্ধ হয়নি, দেশের টাকা বিদেশে পাচার বন্ধ হয়নি এবং বছরের পর বছর মানুষকে নির্বিচারে জেলে আটকে রাখার ঘটনাও বন্ধ হয়নি।

অতএব এসব নীতি-আদর্শ মানুষকে শান্তি দিতে পারে না। একমাত্র ইসলামই মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তির পথ দেখাতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, চব্বিশে হাজার হাজার জীবনের বিনিময়ে যে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো হয়েছে, তা এখন ফিকে মনে হচ্ছে। জনপ্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করুন। জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিন। নয়তো জনগণের সহযোগিতা পাবেন না।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ। সঞ্চালনা করেন নগর সেক্রেটারি প্রকৌশলী মুরাদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের উপদেষ্টা ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন, মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব প্রকৌশলী আশরাফুল আলম ও মাওলানা নেছার উদ্দীন, সহকারী মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, শেখ ফজলুল করীম মারুফ, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মুফতি রেজাউল করীম আবরার, অধ্যাপক ড. সরোয়ার হোসেন, বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী ও ড. ঈসা সাহেদীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সম্মেলন শেষে ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদকে সভাপতি ও নূরুল ইসলাম নাঈমকে সেক্রেটারি করে ঢাকা মহানগর উত্তর ইসলামী আন্দোলনের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন পীর সাহেব চরমোনাই।
জেইউ/আরএফ