ব্যক্তি, পরিবার, পেশা ও সংগঠনের দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, কোনো একটি দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্য দায়িত্বকে অবহেলা করা দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই একজন মুমিনের কর্তব্য।
শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা আয়োজিত দুই দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা শিবিরে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা আমির মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন এবং সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, দায়িত্বশীলদের প্রথম কাজ হলো নিজেদের সময়, কর্মপরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা। ব্যক্তিগত ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার জন্য যেমন সময় দিতে হবে, তেমনি পরিবারের সদস্যদের অধিকারও যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। পরিবারকে সময় না দিয়ে শুধু সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকা যেমন সঠিক নয়, তেমনি পারিবারিক ব্যস্ততার অজুহাতে সাংগঠনিক দায়িত্বে অবহেলাও কাম্য নয়।
তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীলের পেশাগত দায়িত্বও আমানত। কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা, সময়ানুবর্তিতা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পেশাগত দায়িত্বে অবহেলা করে সংগঠনের কাজ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও পরিকল্পনা, কর্মবণ্টন, সময় ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারসাম্য রক্ষার জন্য দায়িত্বশীলদের সময় ব্যবস্থাপনা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণে দক্ষ হতে হবে। কোন কাজটি আগে করতে হবে, কোন কাজটি অন্যের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায় এবং কোন কাজটি নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে হবে— এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। দায়িত্ব অর্পণ ও কর্মবণ্টনের মাধ্যমে সংগঠনের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। সব কাজ নিজে করার মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
পরিবারকে একজন দায়িত্বশীলের শক্তির জায়গা উল্লেখ করে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ, তাদের প্রয়োজন বোঝা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পরিবারে শান্তি ও শৃঙ্খলা থাকলে দায়িত্বশীল ব্যক্তি সমাজ ও সংগঠনের কাজেও অধিক মনোযোগী ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আত্মসমালোচনা ও নিয়মিত পর্যালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বা সাপ্তাহিকভাবে নিজের কাজের হিসাব নিতে হবে— কোথায় সফলতা এসেছে, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কীভাবে তা সংশোধন করা যায়। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীলের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যক্তি, পরিবার, পেশা ও সংগঠনের মধ্যে সুন্দর সমন্বয় তৈরি হবে।
তিনি দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে বলেন, লক্ষ্য শুধু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করা নয়; বরং উত্তম চরিত্র, দায়িত্বশীলতা, আমানতদারি ও মানুষের কল্যাণের মাধ্যমে নিজেদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। ব্যক্তি জীবনে আদর্শ, পরিবারে দায়িত্বশীল, পেশায় সৎ ও দক্ষ এবং সংগঠনে সক্রিয়— এই চারটি গুণের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই একজন দায়িত্বশীল প্রকৃত অর্থে সফল হতে পারবেন।
শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় যুব বিভাগের সেক্রেটারি মঞ্জরুল ইসলাম ভূইয়া সংগঠন পরিচালনায় পরিকল্পনা, কর্মবণ্টন, বাস্তবায়ন ও তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ইসলামি আন্দোলনের একজন সংগঠকের দায়িত্ব হলো উত্তম পরিকল্পনা গ্রহণ, সঠিকভাবে কর্মবণ্টন, কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ, নিয়মিত তদারকি, কাজের পর্যালোচনা এবং যথাযথ রিপোর্টিং করা।
মঞ্জরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং অধীন এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু কর্মসূচি গ্রহণ করলেই হবে না; কর্মসূচির বাস্তবায়ন কতটুকু হলো, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কীভাবে তা পূরণ করা যায়— তা নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে।
শিক্ষা শিবিরের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে কুরআন থেকে দারস পেশ করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শরিফুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হলে প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে নিজের জীবনে ভারসাম্য, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাহলেই সংগঠন শক্তিশালী হবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মী গড়ে তোলার মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি দায়িত্বশীলদের নিয়মিত অধ্যয়ন, আত্মসমালোচনা, পারস্পরিক পরামর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
দুই দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরে উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রউফ ও অধ্যক্ষ মো. শাহীনুর ইসলাম, জেলা সহকারী সেক্রেটারি এবিএম কামাল হোসাইন ও মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, জেলা রাজনৈতিক সম্পাদক হাসান মাহবুব, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক কবিরুজ্জামান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক লুৎফর রহমান মোল্লা, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আ. রহীম মজুমদার, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আসাদুজ্জামান জীম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস, ইমদাদুল হক, আব্দুল কাদের, কাজী বেলাল, সাভার পৌর আমির আজিজুর রহমান, সাভার থানা আমির আব্দুল কাদের, আশুলিয়া থানা আমির বশির আহমেদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আমির ইলিয়াস হোসেনসহ জেলা ও থানার বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল উপস্থিত ছিলেন।
এমএসআই/এসএএস
