অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি বলেন, পল্লবী-রূপনগরের বেগুনটিলা, চলন্তিকা ও আরামবাগের মতো বস্তি এলাকায় বসবাসকারী অসহায় পরিবারের নারী বা মায়েদের হাতে সবার আগে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর পল্লবীতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল পল্লবী থানা আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক এসব কথা বলেন।
আমিনুল হক বলেন, ‘১০ লাখ পরিবারের কাছে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, ইনশাআল্লাহ। এ বছর প্রায় ৪০ লাখের বেশি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো স্বচ্ছল ব্যক্তি অগ্রাধিকার না পান। যারা অসচ্ছল, কষ্টে আছেন এবং যাদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের আগে কার্ড দিতে হবে।
তিনি বলেন, পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় খুব দ্রুত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হবে। বেগুনটিলা, চলন্তিকা ও আরামবাগের বস্তি এলাকার অসহায় মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে সত্যিকার অর্থেই আমরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে রয়েছি। এটা বাস্তবতা, আমাদের স্বীকার করতে হবে।’ তার অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আমিনুল হক বলেন, দেশের মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগ আনা এবং দেশীয়ভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল বৃক্ষরোপণ। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু সরকারের পক্ষে এত গাছ লাগানো সম্ভব নয়; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে হবে।
শিশুদের গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমিনুল হক বলেন, স্কুল, কলেজ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে গাছ লাগানোর কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। এতে ছোটবেলা থেকেই শিশুরা গাছের উপকারিতা ও পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন হবে।
এ সময় ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগের কথাও জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল হয়ে আছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সে জন্য প্রশাসন ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পল্লবী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান বাবুর সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব রবিউল করিম বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ, মাহাবুবুল আলম মন্টু। এ ছাড়াও রূপনগর থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাদিউল ইসলাম রাজীব, পল্লবী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন হোসেন, মোশারফ হোসেন, ফরিদ আহমেদ চঞ্চল, আব্দুস সালাম, থানা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইমরান, আসাদ, মামুনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএম/এসএম
