সরকারের প্রথম ছয় মাস ব্যর্থতার সাক্ষ্য দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতৃত্ব এক কোটি কর্মসংস্থান, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, গত ছয় মাসে শুধু তৈরি পোশাক খাতেই প্রায় ২০ হাজার মানুষ বেকার হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১০ জন করে মানুষ খুন হচ্ছেন। লোডশেডিং মাত্রা ছাড়িয়েছে এবং জ্বালানি সংকটে দেশের স্থিতিশীলতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সার্বিকভাবে সরকারের প্রথম ছয় মাস তাদের ব্যর্থতারই সাক্ষ্য দিচ্ছে।
রেজাউল করীম বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতৃত্ব অনেক আশার বাণী শুনিয়েছিল। এক কোটি কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার করেছিল, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পর ছয় মাস অতিক্রান্ত হলেও তাদের দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতিই বাস্তবে রূপ পাওয়ার ন্যূনতম লক্ষণ প্রকাশ পায়নি।
তিনি বলেন, গত ছয় মাসে শুধু আরএমজি খাতেই প্রায় ২০ হাজার মানুষ বেকার হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১০ জন করে মানুষ খুন হচ্ছেন। লোডশেডিং মাত্রা ছাড়িয়েছে এবং জ্বালানি সংকটে দেশের স্থিতিশীলতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতারই চিত্র তুলে ধরছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, মানুষ হত্যার পর পুলিশ খুনিদের গ্রেপ্তার করলেও অনেক ক্ষেত্রে বিচার হয় না। নিম্ন আদালতে বিচারের রায় ঘোষণা হলেও সেই রায় কার্যকর হয় না। আদালতের অন্দরে বিচার পথ হারায়।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিল অপরাধ সংঘটনের আগেই পুলিশ সক্রিয় হবে এবং অপরাধ সংঘটনের আগেই অপরাধীকে নিষ্ক্রিয় করা হবে। কিন্তু সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যকর করতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, লোডশেডিং কমাতে হবে, জ্বালানি সংকটের সমাধান করতে হবে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় মানুষের ক্ষোভ সীমা স্পর্শ করতে পারে।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, সংস্কারের বিষয়ে তারা বারবার বলে আসছেন। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা হতাশাজনক। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই সর্বসম্মত বিষয়টিও অনুসরণ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সংস্কারের অন্য বিষয়গুলোতেও সরকার রীতিমতো বিরুদ্ধ অবস্থান নিয়েছে। সাংবিধানিক সুযোগ ব্যবহার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই দেশে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার সাধন করে দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্রের চিরস্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে সতর্ক করে বলতে চাই, সরকার যদি সংস্কার না করে, তাহলে যে ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা তৈরি হবে, তার দায় এই সরকারকেই নিতে হবে।
জেইউ/এমএসএ
