কক্সবাজার বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে প্রায় ৩০ জন কিশোর ও যুবককে মাইক্রোবাসে তোলা হয়। তবে গন্তব্যে না নিয়ে তাদের নামিয়ে দেওয়া হয় আনোয়ারা উপজেলার সড়কের মোড়ে, হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের ব্যানার। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতির খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে দুই মাইক্রোবাসসহ ৩০ জনকে আটক করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আনোয়ারা-বাঁশখালী প্রধান সড়কের বরুমচড়া ইউনিয়নের রাস্তার মাথা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় শহীদুল ও সাজ্জাদসহ ৫৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম প্রকাশ শহীদ (৩৫) ও ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন প্রকাশ সাজ্জাদের (৩৫) নেতৃত্বে এই মিছিলে অর্থায়ন ও প্ররোচনা দেওয়া হয়।
আটকরা হলো- বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম (৩৪), মো. ইসমাইল (২০), নোমান মাহমুদ (১৫), মো. মিশকাত (২১), মাহিম উদ্দিন তুরাজ (১৫), মো. হাছান (১৫), মো. রিয়াজ (১৭), মো. ইমন (১৭), মো. আরিফ (১৮), মো. মিশকাত (১৫), মো. রাকিব (১৫), মো. মুজাহিদ (১৭), মো. জিহাদ (১৪), মো. রিফাত (১৮), মো. ছামির (১৫), মো. সাহেদ হোছাইন, মো. মিজবাহ (১২), মো. সজিব (১৬), মো. হাছান (১৫), মো. আজাদ হোসেন (১৯), আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৫), মো. রিয়াদ (১৬), মিরাজ (১৫), রিফাতুল ইসলাম (১৫), মো. নেছার (১৪), মো. হৃদয় (২১), মো. খোকন (২৮), আব্দুর রহমান (১৪), মো. নাইম উদ্দিন (১৮) ও মো. আরাফাত (১৯)।
আটকদের মধ্যে ৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে নির্ধারিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, চট্টগ্রাম’-এ সোপর্দ করার প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তারা হলেন— মো. মিশকাত (১৫), মো. রাকিব (১৫), মো. ছামির (১৫), মো. সজিব (১৬), মো. হাছান (১৫), আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৫), মিরাজ (১৫) ও রিফাতুল ইসলাম (১৫)। তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মো. ইমাম হোসেন মামলার স্বার্থে ও পুনরায় একই কর্মকাণ্ড রোধে আদালতের কাছে তাদের আটক রাখার আবেদন জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকালে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন থেকে একদল তরুণ ও যুবককে কক্সবাজারে ভ্রমণের লোভ দেখিয়ে দুটি মাইক্রোবাসে করে নিয়ে আসা হয়। আনোয়ারা-বাঁশখালী প্রধান সড়কের বরুমচড়া রাস্তার মাথা এলাকায় পৌঁছানোর পর তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ও স্থানীয়ভাবে খবর পেয়ে জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে ঝটিকা মিছিলে অংশ নিতে আসা ৩০ জনকে আটক করে।
অভিযান পরিচালনাকালে মিছিলকারীদের বহনকারী একটি সাদা ও একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস এবং মিছিলের জন্য তৈরি করা ব্যানারটি জব্দ করে পুলিশ। জব্দ করা মাইক্রোবাস দুটির নিবন্ধিত নম্বর চট্টগ্রাম মেট্রো-চ ১১-৬৬৪৪ এবং চট্টগ্রাম মেট্রো-চ ১১-৯৬০০। আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য আনোয়ারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এবিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ডিবি পুলিশ বরুমচড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে আনোয়ারা থানায় হস্তান্তর করেছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে পাঠানো হবে।’
জানতে চাইলে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মাহমুদুল হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আটকদের মধ্যে কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা এর আগে চট্টগ্রামের পটিয়ায়ও মিছিল করেছে এবং আনোয়ারায়ও মিছিল করার চেষ্টা করছিল। এমন খবরেই তাদের আটক করা হয়।’
জেডএস
