আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত ও একাডেমিক দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি আত্মিক পবিত্রতা ও স্রষ্টার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত ও একাডেমিক দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি আত্মিক পবিত্রতা ও স্রষ্টার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছাড়া প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। একজন আদর্শ ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের মধ্যে সঠিক চরিত্র ও সঠিক দিকনির্দেশনা, দুটিরই সমন্বয় প্রয়োজন।
রোববার (৩০ আগস্ট) ১০ দিনব্যাপী ‘প্রি-কলেজ স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং ক্যাম্প (পিসিএসডি) ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ বিভাগের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের জনশক্তিদের নিয়ে এ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। গত ২১ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত গাজীপুরে ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হয়।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহীর পরিচালনায় এ আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সততা ও দূরদর্শিতায় ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা’।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, শুধু একাডেমিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করলেই একজন মানুষ প্রকৃত অর্থে সফল হতে পারে না। ব্যক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে হবে। ভবিষ্যতের নেতৃত্বকে জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি সঠিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে।
ক্যাম্পে কলেজ জীবনে প্রবেশের আগে শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক, ভাষাগত ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিদিন ইংরেজি ও কম্পিউটারের ওপর মোট ৪০টি ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। এর পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াত, বিষয়ভিত্তিক স্টাডি সেশন, মোটিভেশনাল ক্লাস ও ইনোভেটিভ গেমসের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, জিপিএ-৫ অর্জন জীবনের একটি গৌরবময় মাইলফলক হলেও এটি চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিক দৃঢ়তার সমন্বয় ঘটিয়ে আগামীর ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসাইন বলেন, বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ। মানবসম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব। মেধাবী তরুণদের সততা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে তারা সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারেন।
সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, শুধু ভিশন বা দূরদর্শিতা থাকলে নেতৃত্ব উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে পারে। কিন্তু নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হলে সেই নেতৃত্ব ভুল পথে পরিচালিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই দূরদর্শিতার পাশাপাশি সততা ও নৈতিক দৃঢ়তা প্রয়োজন।
ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেন, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধাবীদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে। মেধা ও যোগ্যতার সঙ্গে সততা ও দূরদর্শিতার সমন্বয় ঘটলেই দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতায় আগামী দিনের নেতৃত্বকে জ্ঞাননির্ভর ও উদ্ভাবনী হতে হবে। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, মেধা ও দক্ষতা মানুষকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়। তবে সেই সক্ষমতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নৈতিক চরিত্র প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে মেধা ও দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে গড়ে তুলতে হবে।
জেইউ/জেডএস
