বিজ্ঞাপন

ঢাকার সমস্যা জনবলের অভাবে নয়, দায়িত্ববোধের অভাবে : সেলিম উদ্দিন

ঢাকার সমস্যা জনবলের অভাবে নয়, দায়িত্ববোধের অভাবে : সেলিম উদ্দিন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫৪টি ওয়ার্ডে সাত দিনের ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচিতে ২৯০টি খাল ও ড্রেন পরিষ্কার এবং প্রায় ২০৪ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের জামায়াতের আমির ও ডিএনসিসি মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

তিনি বলেছেন, “এই শহরের সমস্যা জনবলের অভাব নয়, দায়িত্ববোধের অভাব।” একই সঙ্গে দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রশাসনের হাতে নগরের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় রাজধানীর বারিধারায় ঢাকা মহানগর উত্তরের কার্যালয়ে ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সেলিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, গত ২৫ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে একযোগে ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় খাল পরিষ্কার, জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং দখল হয়ে যাওয়া ফুটপাত উন্মুক্ত করার কাজ করা হয়।

সেলিম উদ্দিন বলেন, “সাত দিনে ঢাকার সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে— আমরা এমন দাবি করছি না। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, কাজটি যে সম্ভব, তা হাতে-কলমে দেখানো এবং নগরবাসীর কণ্ঠস্বরকে এক জায়গায় জড়ো করা।”

কর্মসূচির তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, সাত দিনে ৫৪টি ওয়ার্ডে ২৯০টি খাল ও ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ২০৪ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। কর্মসূচিতে প্রায় ২৫ হাজার ৮২৮ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।

ঢাকার জলাবদ্ধতা ও ফুটপাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “একসময় যে খাল পানি নিয়ে যেতে প্রধান মাধ্যম ছিল, সেটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ফুটপাতে হাঁটার কথা, সেখানে দোকান বসেছে। সাত দিন কাজ করার পর একটি কথা না বলে পারছি না- এই শহরের সমস্যা জনবলের অভাব নয়, দায়িত্ববোধের অভাব।”

সেলিম উদ্দিন জানান, ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ২০টি স্মার্ট বিন স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিনে তিন ধাপে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা রয়েছে। আগামী সাক্ষরতা দিবসে সংগৃহীত বর্জ্য থেকে কলম তৈরি করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

সরকারকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বর্জ্যকে বোঝা হিসেবে না দেখে সম্পদে পরিণত করতে হবে। এ জন্য উন্নত রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির সমালোচনা করে সেলিম উদ্দিন বলেন, “মানুষকে দুর্বল বানানোর দরকার নেই, কার্ড নয়, কাজ চাই। আমাদের এই জাতি অন্যের কাছে হাত পাতবে কেন? তারা নিজেরা মাথা উঁচু করে কাজ করে নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে চায়।”

ঢাকার সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সড়কবাতি সচল রাখা, নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল, অভিযোগের অগ্রগতি ও নিষ্পত্তির অবস্থা ঘরে বসে জানার সুযোগ নাগরিকদের দেওয়ার কথা বলেন।

ওয়ার্ডভিত্তিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রতি মাসে প্রতিটি ওয়ার্ডের বাজেট, ব্যয় ও কর্মসূচির তথ্য নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে এবং এ বিষয়ে রিপোর্টিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা একটি স্মার্ট বিরোধী দল পেয়েছেন। প্রয়োজন হলে আমাদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিন।”

পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “এই শহরকে এমন একটি শহরে রূপান্তর করা সম্ভব, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকেও পর্যটকরা ঘুরতে আসবেন।”

তিনি নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজনের দাবি জানিয়ে বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রশাসনের হাতে নগরের দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার ও নগর প্রশাসনকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে দায়িত্বশীলতার খাতিরে যে কেউ চাইলে এ ধরনের কাজ করতে পারে। প্রশাসনের কাছে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও জনবল থাকার পরও কেন একটি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা সম্ভব হবে না- সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “ময়লা নিয়েও ঢাকা শহরে সিন্ডিকেট হয়। সেই সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের জামায়াতের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন এবং প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।

জেইউ/এনএফ

বিজ্ঞাপন