বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী

‘লং মার্চে পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি থেকে কমিয়ে এক হাজারে নিয়ে এসেছি’

‘লং মার্চে পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি থেকে কমিয়ে এক হাজারে নিয়ে এসেছি’

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি থেকে কমিয়ে প্রায় এক হাজার গাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

তিনি বলেন, সরকার তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, এটা থেকে কীভাবে আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি, সেজন্যই এই কর্মসূচি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের কিছু দায়িত্ববোধ রয়েছে। মানুষের আহ্বানে সাড়া দেওয়া। সে জায়গা থেকে আমরা আমাদের লং মার্চ কর্মসূচি করতে যাচ্ছি। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টায় শাপলা চত্বর থেকে আমরা যাত্রা শুরু করব।

লং মার্চে জনদুর্ভোগের বিষয়ে তিনি বলেন, একটা প্রশ্ন আসে যে মানুষের ভোগান্তি হবে কি না। এজন্য আমরা প্রথমে আইজিপিকে চিঠি দিয়েছিলাম, আলোচনা করেছিলাম। সেখানে যেই সিদ্ধান্তগুলো হয়েছে আমরা একটি লাইন ধরে যাব। দুইটা লাইনে আমাদের কোনো গাড়ি থাকবে না, একটা লাইনে থাকব।

তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক কিছু সংযোজন করেছি, বিয়োজন করেছি। বাংলাদেশের মানুষের এমনিতেই তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে অস্বস্তি রয়েছে। এই দাবিগুলো পূরণ করার জন্য যেন আরও কোনো মানুষের ভোগান্তি না হয়, কোনো অ্যাম্বুলেন্স যাতে কোথাও আটকা না পড়ে, সেজন্য আমরা এই ব্যবস্থা করেছি।

লং মার্চের গাড়িবহর সম্পর্কে নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, আমাদের যে লক্ষ্যযাত্রা ছিল পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি যাবে। সেটাও আমরা একটু সংকুচিত করে প্রায় এক হাজার গাড়িতে নিয়ে এসেছি। সরকার তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, এটা থেকে কীভাবে আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি, সেজন্যই এ কর্মসূচি।

তিনি বলেন, প্রথমে আমরা ঢাকার শাপলা চত্বরে সকাল ৭টায় উপস্থিত হবো। সেখানে আপনারা সবাই অংশগ্রহণ করবেন। এরপর আমরা গাড়িগুলো সিরিয়াল করে নেব। সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত আমাদের প্রোগ্রাম শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে উদ্বোধনী বক্তব্য ও শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন। এরপরে আমরা গাড়ি ছেড়ে দেবো।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে বের হওয়ার পরে প্রথম পথসভা হবে চিটাগাং রোডের ট্রাক স্ট্যান্ডে, সিদ্ধিরগঞ্জে। সেখানে সকাল ৯টার সময় উপস্থিত হবো। এরপর কুমিল্লায় দুপুর ১২টায় উপস্থিত হবো। নূর হোটেলের লবিতে একটি খালি জায়গায় সেখানে আমরা কর্মসূচি করব। সেখানে দুপুরে খাবার দাবারের ব্যবস্থা থাকবে।

এরপর লং মার্চের গাড়িবহর নিয়ে ফেনীতে উপস্থিত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ফেনীতে যে জায়গাটায় আমরা উপস্থিত হবো, সেটা হলো মহিপাল। সম্ভাব্য সময় করেছি দুপুর ৩টা। সেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, খেলাফত মজলিস থেকে শুরু করে সব দলের ব্যাপক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের অন্যতম ইন্ডাস্ট্রিয়াল শহর মিরসরাইয়ে আমরা উপস্থিত হবো। সেখানে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় থাকবে। সেখানেও সবাই অংশগ্রহণ করবেন। এরপর আমরা চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানে রাত ৯টায় উপস্থিত হবো। সেখানে লাখ লাখ লোক জমায়েত হবে এবং গাড়িবহরে যারা রয়েছেন তারাও জমায়েত হবেন।

দেশবাসীর উদ্দেশে নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, আপনি আছেন, আপনার কাছে আমরা আসছি। আপনাদের কথাগুলো আমরা শুনতে চাই। আপনার কী কী সমস্যা আছে, রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে যেহেতু এই জায়গাগুলোতে ভয়েস রেইজ করতে হয়, আমরা আপনাদের কথাগুলো যেহেতু শুনতে যাচ্ছি, রাস্তার কাছে আপনারা চলে আসবেন। সেখানে আমরা আপনাদের সঙ্গে কথা বলব, আলোচনা করব, কীভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়া যায়।

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন জায়গায় প্লেনে, হেলিকপ্টারে, বিমান ভাড়া করে সবাইকে নিয়ে হল ভর্তি করে। আমরা জনগণের প্রয়োজনে যাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমএসআই/এসএম