গণদাবি বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চের শেষ কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় সমাবেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে লালদিঘি মাঠে সমাবেশের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান জোটের চট্টগ্রাম নগরের নেতারা।
এর আগে সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চ শুরু হয়। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা, সংবর্ধনা ও অভিবাদন কর্মসূচির পর লং মার্চটি চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবে। পরে লালদিঘি ময়দানে বড় সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হবে।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে জোটের নেতাকর্মীরা নগরীর দিকে আসছেন। জোটের নেতারা সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগমের প্রত্যাশা করছেন। তাদের দাবি, লালদিঘির সমাবেশে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে।
জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচনপূর্ব সংস্কার ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
জোট নেতাদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে সংসদে বারবার দাবি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। ফলে জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি নিতে হয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে প্রায় অর্ধলক্ষ নেতাকর্মী একসঙ্গে লালদিঘির সমাবেশে যোগ দেবেন। গণদাবি সরকারকে মানতে হবে। জনগণের দাবি উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। লং মার্চ কোনো একক দলের কর্মসূচি নয় এটি জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচি।
লং মার্চে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন।
জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করার জন্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার জন্যও আহ্বান জানানো হয়।
নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, লংমার্চ ও লালদিঘির সমাবেশের মধ্য দিয়ে সরকারের কাছে জনগণের দাবিগুলো নতুন করে তুলে ধরা হবে। দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কর্মসূচি আসতে পারে।
এমআর/আরএফ
