বিজ্ঞাপন

কালো আইন গুমকারীদের দায়মুক্তি দেবে : মীর আহমাদ বিন কাসেম

কালো আইন গুমকারীদের দায়মুক্তি দেবে : মীর আহমাদ বিন কাসেম

জাতীয় সংসদে দুটি ‘কালো আইন’ পাসের প্রতিবাদে মুখ ও কানে কালো কাপড় বেঁধে ওয়াকআউট করেছেন সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। তার অভিযোগ, এসব আইন গুমের ঘটনায় অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনার পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করবে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় তার ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা জানান তিনি।

স্ট্যাটাসে মীর আহমাদ বিন কাসেম লেখেন, জাতীয় সংসদে দুটি কালো আইন পাস হলো। আমরা প্রতিবাদ করেছি। মুখে ও কানে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি। কারণ এই আইন সেই রাষ্ট্রের প্রতীক— যে রাষ্ট্র গুমের শিকার মানুষের মুখ বন্ধ করে দেয়, আর তার স্বজনদের আর্তনাদ শুনেও শোনে না।

তিনি আরও লেখেন, আমি আয়নাঘরে আট বছর কাটিয়েছি। আমি জানি অন্ধকারে কেমন লাগে। জানি, বাইরে মা কেমন করে অপেক্ষা করেন। আজ সংসদে দাঁড়িয়ে আমার বারবার মনে হচ্ছিল— এই আইন থাকলে আমাকে কেউ খুঁজে পেত না। আগামীকাল যদি আরেকজন হারিয়ে যায়, এই আইন তাকেও খুঁজে পাবে না।

যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই বাহিনীই তদন্ত করবে— এ কেমন বিচার? গুমের মামলা যাবে সেই পুলিশের হাতে, যে প্রতিষ্ঠান নিজেই জবাবদিহির কাঠগড়ায়। এ আইন গুম বন্ধ করবে না, গুমকারীদের দায়মুক্তি দেবে। জাতিসংঘের সনদে আমরা যে ওয়াদা করেছিলাম, এই আইন সেই ওয়াদারও বরখেলাপ বলেও লেখেন তিনি।

মীর আহমাদ বিন কাসেম লেখেন, শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে যে সংসদ, সেই সংসদে ফ্যাসিবাদের আইনই যদি ফিরে আসে— তাহলে এত ত্যাগ কীসের জন্য ছিল? আমাদের দাবি স্পষ্ট, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ ফিরিয়ে আনুন— যেখানে কমিশনের নিজস্ব স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা ছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। মুখে কালো কাপড় বাঁধা যায়, কিন্তু সত্যকে চিরকাল বেঁধে রাখা যায় না। গুমের বিরুদ্ধে, দায়মুক্তির বিরুদ্ধে— এই লড়াই চলবে, ইনশাআল্লাহ।

এমএইচএন/জেআই