বিজ্ঞাপন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচন

ইশরাক-সালাম-সোহেলকে ঘিরে বিএনপির কঠিন সমীকরণ

ইশরাক-সালাম-সোহেলকে ঘিরে বিএনপির কঠিন সমীকরণ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে হিসাব-নিকাশ কষতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনও ভোটের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি, তবুও দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ উদ্যোগে মাঠে সক্রিয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে মূলত তিনজনের নাম আলোচনায় রয়েছে— দক্ষিণ সিটির বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং দলটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। 

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতার বিষয়ে এখনও কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি। তবে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, নিজস্ব ভোটব্যাংক, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকার সামর্থ্য পর্যবেক্ষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলটি।

তরুণ ও স্থানীয় সমীকরণে এগিয়ে ইশরাক

বিএনপি নেতাদের মতে, তিন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে ইশরাক হোসেনের অবস্থান কিছুটা ব্যতিক্রমী ও শক্ত। ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন তিনি। ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির নানা অভিযোগের ওই নির্বাচনেও তিনি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫১২ ভোট পান (যেখানে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস পেয়েছিলেন ৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৫ ভোট)।

পুরান ঢাকার ঐতিহ্য, তরুণদের সমর্থন ও বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ইশরাক হোসেনের বড় শক্তি / ছবি- সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির একাংশের দাবি, ওই নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকার কারণে দক্ষিণ সিটিজুড়েই ইশরাকের একটি শক্ত রাজনৈতিক পরিচিতি ও নিজস্ব ভোটারভিত্তি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার স্থানীয় শিকড়। পুরান ঢাকার রাজনীতিতে ইশরাক পরিচিত মুখ, আর তার বাবা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের দীর্ঘদিনের মেয়র ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। ফলে পুরান ঢাকায় খোকা পরিবারের ঐতিহ্য ও পারিবারিক পরিচিতি নির্বাচনী মাঠে ইশরাকের জন্য বড় ধরনের বাড়তি সুবিধা যোগ করবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সূত্রের মতে, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে স্থানীয় কাউকেই দলের মেয়র মনোনয়ন দেওয়া যুক্তিসঙ্গত। তাছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ও এনসিপি তাদের প্রার্থী হিসেবে তরুণ নেতাদের নাম সামনে আনায় ‘ঢাকার সন্তান’ ও ‘তরুণ নেতৃত্ব’— এই দুই সমীকরণে ইশরাক হোসেনই সবচেয়ে এগিয়ে থাকেন।

চলতি বছরের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিলেও সম্প্রতি বিষয়টি খোলাসা করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, ‘তৎকালীন প্রেক্ষাপট থেকে ওই বার্তাটি দেওয়া হয়েছিল। তবে আসল কথা হলো, সব কিছু নির্ভর করছে দলের সিদ্ধান্তের ওপর। দল যদি প্রয়োজন মনে করে সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে হবে, তবে আমি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দলের জন্য ভোটের মাঠে নামতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ে জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দলীয় গ্রিন সিগন্যাল না মিললেও মাঠে সক্রিয় তিন হেভিওয়েট নেতা— মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ডিএসসিসির বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। প্রার্থীর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, জনপ্রিয় ও নিজস্ব ভোটব্যাংক এবং প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে জয়ের সামর্থ্য দেখেই হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্ত করবে

নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক পথচলা শুরুই হয়েছিল নগরকেন্দ্রিক রাজনীতি এবং নাগরিক সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার নিয়ে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণেই আমার ওই বার্তা দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে নগরের বিভিন্ন এলাকায় আমার একটি শক্ত সামাজিক ভিত্তি ও অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।’

বিশেষ করে পুরান ঢাকার ৬ ও ৭ নম্বর আসনের বাসিন্দাদের অব্যাহত সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, ‘পুরান ঢাকার মানুষ আমাকে বিপুল সমর্থন দিয়েছে এবং তারা আজও চায় আমি যেন ভোটের মাঠে থাকি। মূলত তাদের প্রত্যাশার জবাবেই সেই কথাগুলো লিখেছিলাম।’

‘তবে, একক সিদ্ধান্তের সুযোগ নেই’— জানিয়ে ইশরাক স্পষ্টভাবে বলেন, ‘দল যদি মনে করে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তবেই আমি সিটি নির্বাচনে অংশ নেব।’ একই সঙ্গে মন্ত্রিত্ব ও সিটি ভোটের দায়িত্ব পালন করা অনুচিত মনে করেন তিনি। তার কথায়, ‘একসঙ্গে দুটি পদে থাকা সমীচীন নয়। দল চাইলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে সিটি ভোটের মাঠে নামতেও আমি রাজি।’

চূড়ান্ত পদক্ষেপের বিষয়ে দলীয় প্রধানের ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। উনার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে পরামর্শ চাওয়া হবে, আর সেই আলোচনার পর দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই মূল পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় আব্দুস সালামের শক্ত অবস্থান

অন্যদিকে, মেয়র পদে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালামের নামও বেশ জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। এর আগে তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে নগর প্রশাসনের গতিপ্রকৃতি তার নখদর্পণে। বর্তমানে প্রশাসকের দায়িত্বে থাকায় দক্ষিণ সিটির নাগরিক সমস্যা, সেবা ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গেও তিনি সরাসরি যুক্ত।

নগর পরিচালনায় দীর্ঘ প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতায় শক্ত অবস্থানে আব্দুস সালাম / ছবি- সংগৃহীত

আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণার আগেই রাজপথে ব্যানার-পোস্টারে তার প্রার্থিতার কথা জানান দিচ্ছেন অনুসারীরা। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সঙ্গে নগর প্রশাসনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ভোটের মাঠে আব্দুস সালামের জন্য বড় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে আব্দুস সালাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমি নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখেই প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্বাস করি, সাধারণ মানুষ আমার পাশেই থাকবে। ঢাকার রাজনীতিতে আমি নতুন নই; ওয়ার্ড চেয়ারম্যান, নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং ডেপুটি মেয়র হিসেবে দীর্ঘদিন নগর পরিচালনা ও নাগরিক সমস্যা সমাধানের অভিজ্ঞতাই আমার মূল শক্তি।’ অল্প মেয়াদের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এত সংক্ষিপ্ত সময়ে সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তবে, জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে পূর্ণ মেয়াদে আরও গতি ও সুপরিকল্পিতভাবে নগরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়ার সুযোগ পাব।’ 

তিন প্রার্থীরই আলাদা শক্তি রয়েছে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্য, খোকা পরিবারের প্রভাব ও তরুণের চাহিদায় সুবিধাজনক অবস্থানে সাবেক প্রার্থী ইশরাক হোসেন। সাবেক নির্বাচিত ডেপুটি মেয়র ও বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালামের মূল শক্তি দীর্ঘ নগর পরিচালনার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে, মূল দল ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির পরিক্রমায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত নিজস্ব শক্তিশালী বলয় রয়েছে বিএনপির সাবেক ছাত্রনেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলের

সাংগঠনিক বলয়ে হাবিব উন নবী খান সোহেল

দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির তৃতীয় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। মূল দল ও অঙ্গসংগঠনের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত তার মজবুত সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে। অতীতে তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায়, জনপ্রিয় এই কেন্দ্রীয় নেতাকে ঢাকা দক্ষিণের নগরপিতার পদে নিয়ে আসার বিষয়ে দলের একাধিক স্তরে কথা চলছে।

কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃতি ও শক্তিশালী সাংগঠনিক বলয়ে আলোচনায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল / ছবি- সংগৃহীত

মাঠপর্যায়ে তার সমর্থকদের তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। গত ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন এলাকায় তার ছবি ও শুভেচ্ছাবার্তাসংবলিত ব্যানার-পোস্টার সাঁটানো হয়, যা নির্বাচনী মাঠে তার প্রার্থিতার বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে হাবিব উন নবী খান সোহেল ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘দল যেখানে যেভাবে দায়িত্ব দেবে, আমি তা হাসিমুখে পালন করতে প্রস্তুত। তবে, প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে দল থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দেশনা পাইনি।’

ভোটের সমীকরণ ও বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঢাকা সিটি নির্বাচন দলটির জন্য এক বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। তাই ঢাকার দুই সিটিতে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে এমন প্রার্থী দিতে হবে, যিনি দলীয় ভোটের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদেরও সমানভাবে আকৃষ্ট করতে পারবেন। বিশেষ করে দক্ষিণ সিটিতে পুরান ঢাকা, নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলো এবং মধ্য ঢাকার ভোটারদের মানসিকতা ও অগ্রাধিকার এক নয়; ফলে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাই জয়-পরাজয়ের মূল নিয়ামক হয়ে উঠবে।

একই সঙ্গে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা সিটিতে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করায় এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম আলোচনায় আসায় বিএনপির হাইকমান্ডের ওপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ বাড়ছে।

নির্বাচনে বিএনপি কাকে প্রার্থী করবে— এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আগে নির্বাচনের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হোক, তারপর দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এটি নিয়ে আলোচনা হবে। প্রার্থী নির্ধারণ পুরোপুরি দলের গোপনীয় ও কৌশলগত বিষয়। সময় হলে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হবে।’

জাতীয় নির্বাচনের পর ঢাকা সিটিতে জয় ধরে রাখা বিএনপির জন্য এক বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। জামায়াত ও এনসিপি ভোটের প্রস্তুতি শুরু করায় সময় যত গড়াচ্ছে বিএনপি হাইকমান্ডের ওপর প্রার্থী বাছাইয়ের চাপও তত বাড়ছে। দলগত প্রস্তুতি হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ইতোমধ্যে ৮টি বিশেষ টিম গঠন করে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তৃণমূল সুসংগঠিত করার পাশাপাশি মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের আমলনামা গভীরভাবে তদারকি করছে

এদিকে, আগাম নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত ও সমন্বয় সাধনে গঠন করা হয়েছে ৮টি বিশেষ সাংগঠনিক টিম, যা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি করছে। 

মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘দল আমাদের সাংগঠনিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা ৮টি বিশেষ টিম গঠন করেছি, যা থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সরাসরি কাজ করবে।’ 

তৃণমূলের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এই সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের বাস্তব চিত্র ও গতিবিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেব। পরবর্তীতে নির্বাচন সামনে রেখে দল যেভাবে নির্দেশনা দেবে, আমরা সেভাবেই কাজ করব।’

এদিকে, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও তদারকি জোরদারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) সাইদুর রহমান মিন্টু ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের গঠিত সাংগঠনিক টিমের নেতারা থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের তৎপরতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কেউ কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কি না, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হচ্ছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করা।’

কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি যোগ করেন, ‘মেয়র পদের পাশাপাশি যারা কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে চান, তাদের ব্যক্তিগত আমলনামা, জনপ্রিয়তা ও সার্বিক বিষয় নিয়েও দল খোঁজ-খবর নিচ্ছে এবং আগামীতেও এই তদারকি অব্যাহত থাকবে।’

এএইচআর/এমএআর