বিজ্ঞাপন

মিয়া গোলাম পরওয়ার

পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, দলীয়করণে ন্যায়বিচার সম্ভব নয়

পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, দলীয়করণে ন্যায়বিচার সম্ভব নয়

বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। 

তিনি বলেছেন, প্রশাসনে দলীয়করণ অব্যাহত রেখে কখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাবে না।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বা ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই’ স্লোগান দিয়েছিল। এই ন্যায়বিচার হচ্ছে সমাজের সব স্তরের বৈষম্য দূর করে সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। কোটা প্রথার মতো বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসাও এর অংশ।

তিনি বলেন, বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে সরকার সেই পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনছে। প্রশাসনের সর্বস্তরে যে দলীয়করণ চলছে, এই দলীয়করণ অব্যাহত রেখে কখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাবে না।

সমাজের প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করাকেই ন্যায়বিচার হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, শুধু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে বৈষম্য দূর করতে হবে। নাগরিকদের জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে না।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মহানবীর (সা.) আদর্শে সমাজ গড়তে পারলে সর্বস্তরে শান্তি বিরাজ করবে। তার আদর্শ অনুসরণ করলে শুধু মানবদেহে নয়, সমাজেও শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে।

তিনি আরও বলেন, সমাজ থেকে অন্যায়, অনাচার, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দূর করতে হলে সীরাতুন্নবী (সা.)-এর আদর্শে সমাজ বিনির্মাণ করতে হবে। এ সময় উপস্থিত চিকিৎসকদের মহানবী (সা.)-এর আদর্শে মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

কনফারেন্সে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহতদের সুচিকিৎসায় ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম যে ভূমিকা রেখেছে তা চিরস্মরণীয়।

তিনি বলেন, যখন শেখ হাসিনা আহত, গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্তদের চিকিৎসা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের চিকিৎসকেরা মানবিকতার পরিচয় দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা দিয়েছেন।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, এ কারণে অনেক চিকিৎসককে ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুমের শিকার হতে হয়েছে। কোনো চিকিৎসককে ঢাকা থেকে মফস্বলে বদলি করা হয়েছে, আবার কাউকে নিজ মেডিকেল বিভাগ থেকে সরিয়ে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এক মেডিকেল বিভাগের চিকিৎসককে অন্য বিভাগে বদলি করা জটিল ও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।

তিনি বলেন, এত কিছুর পরও ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের চিকিৎসকেরা যে আদর্শের পরিচয় দিয়েছেন, সেটি রাসূল (সা.)-এর মানবতার আদর্শ। রাসূল (সা.)-এর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ঘটলে সমাজে অশান্তি ভর করে।

বাংলাদেশে রাসূল (সা.)-এর আদর্শে সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যতদিন এদেশে রাসূল (সা.)-এর আদর্শে সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে না, ততদিন মানুষ শান্তি খুঁজতেই থাকবে। মানুষের তৈরি আইনে সমাজে শান্তি আসেনি, আসবে না। ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তি আসছে এবং আসবে। এ জন্য ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ মারুফ শাহরিয়ারের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ডা. মো. নুর উদ্দিন তালুকদারের সঞ্চালনায় কনফারেন্সে আরও বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন, মতিঝিল মিসবাহুল উলুম কামিল মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস ড. মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসলামী ভাবধারার বিভিন্ন পরিবেশনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, তার আদর্শ অনুসরণের প্রত্যয় এবং নৈতিক মূল্যবোধের বার্তা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিপুলসংখ্যক আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

জেইউ/বিআরইউ