বিজ্ঞাপন

লন্ডনে বাংলাদেশের ৫৬তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

অ+
অ-
লন্ডনে বাংলাদেশের ৫৬তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

লন্ডনের প্রবাসী প্রাঙ্গণে ক্ষণিকের জন্য ফিরে এসেছিল একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলো। বিলেতের মাটিতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য সাহস আর বীরত্বগাঁথাকে সঙ্গী করে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশের ৫৬তম মহান স্বাধীনতা দিবস।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পূর্ব লন্ডনের একটি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা মঞ্চ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘গানে গানে স্বাধীনতা দিবস’ অনুষ্ঠানটি যেন পরিণত হয়েছিল এক আবেগঘন ও বর্ণিল মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিলেতে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মঞ্চে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তাদের সম্মানে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। রণাঙ্গনের অকুতোভয় সেনানীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থলে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মনে করিয়ে দেয় বাঙালির স্বাধীনতার অমর গৌরবগাঁথা।

স্মৃতিচারণা ও সাংস্কৃতিক এই আয়োজনে বিলেতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা মকবুল চৌধুরীর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রদান করে শিশু অয়ন। অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন মুনিরা পারভিন, স্মৃতি আজাদ ও সালাউদ্দিন শাহীন।

বিজ্ঞাপন

সাংস্কৃতিক পর্বের মূল আকর্ষণ ছিল সংগীত পরিবেশনা। শিল্পীরা একে একে পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কালজয়ী গান, যুদ্ধের রণসংগীত এবং দেশাত্মবোধক গান। সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেন– খ্যাতিমান শিল্পী গৌরি চৌধুরী, বাউল শহীদ, লাবনী বড়ুয়া, শাহনাজ সুমি, মোহনা, রুবি সরকার, মিষ্টি তালুকদার, তারেক হাসান, বন্যা তালুকদার, অমিত দে, স্নিগ্ধা রায়, অবলা, শ্রেয়সী, মৃদুল, জয়, শুভাঙ্গী ও সাদমান খান প্রমুখ।

স্বাধীনতা মঞ্চের দুই সংগঠকের প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপনা করেন অন্যতম সংগঠক ঊর্মি মাজহার। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- প্রবীণ সাংবাদিক ও সাপ্তাহিক সত্যবাণী সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা।

স্বাগত বক্তব্যে সৈয়দ আনাস পাশা বলেন, ‘আজ আমরা শুধু একটি দিন উদযাপন করতে এখানে সমবেত হইনি, আমরা এসেছি আমাদের আত্মপরিচয়কে স্মরণ করতে। এই স্বাধীনতা হঠাৎ করে আসেনি; এটি অর্জিত হয়েছে অগণিত শহীদের রক্তে, মা-বোনের ত্যাগে আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিচল নেতৃত্বে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘আজও কিছু অপশক্তি আমাদের গৌরবময় ইতিহাসকে মুছে দিতে চায়। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, যে ইতিহাস রক্তে লেখা, তা কখনো মুছে ফেলা যায় না।’

রাজনীতিক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক অনন্য উৎসবে পরিণত হয়। গান, স্মৃতিচারণা আর গভীর শ্রদ্ধায় বিলেতের এই আয়োজন যেন আবারও প্রমাণ করল– বাংলাদেশ কেবল একটি ভৌগোলিক সীমানা নয়, বরং এটি ত্যাগ ও অদম্য আত্মমর্যাদার এক অবিনাশী ইতিহাস।

বিআরইউ

ঢাকা পোস্ট প্রবাস বিভাগে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন dhakapostprobash@gmail.com মেইলে।