পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইউরোপের ইতিহাসের অন্যতম সর্ববৃহৎ ঈদুল আজহার জামাত। মার্তিম মনিজ স্কয়ারে আয়োজিত এই বিশাল জামাতে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম উম্মাহর এক অভূতপূর্ব মিলনমেলা ঘটে।
পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটির উদ্যোগে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এই জামাত সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ঈদের নামাজে লিসবন ও এর আশপাশের শহর থেকে দলে দলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যোগ দেন। পাঞ্জাবি-টুপি পরিহিত বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে লিসবনের বুক যেন পরিণত হয়েছে এক টুকরো বাংলাদেশে।
বাংলাদেশি ছাড়াও পাকিস্তান, ভারত, মরক্কো, আলজেরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক মুসলিম এই জামাতে অংশ নেন। জাতীয়তা ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং নামাজ শেষে একে অপরকে আলিঙ্গন করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
নামাজের আগে প্রথমে ঈদুল আজহার তাৎপর্য তুলে ধরেন মার্তিম মনিজ মসজিদের ইমাম হাফিজ মাওলানা মিছবাহ উদ্দীন জুবায়ের। পরে ঈদ জামাতের ইমামতি ও খুতবা দেন অধ্যাপক মুফতি মাওলানা আবূ সাঈদ।
নামাজ শেষে খুতবায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। বিশেষ করে, পর্তুগালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান, বৈধতার প্রক্রিয়া সহজ হওয়া এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।
আয়োজকরা বলেন, পর্তুগালে আমাদের বাংলাদেশি কমিউনিটি দিন দিন বড় ও শক্তিশালী হচ্ছে। ইউরোপের বুকে এত বড় একটি ঈদের জামাত সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আন্তরিক সহযোগিতা এই আয়োজনকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করেছে।
বিদেশে যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা আর পরিবারের শূন্যতার মাঝেও এই বিশাল ঈদ জামাত প্রবাসীদের মনে এনে দিয়েছে এক চিলতে স্বস্তি। নামাজ শেষে অনেক প্রবাসী জানান, প্রবাসের মাটিতে এত বড় জামাতে নামাজ পড়তে পেরে মনেই হচ্ছে না তারা দেশ থেকে দূরে আছেন। এই উৎসব যেন তাদের দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকেই ইউরোপের বুকে ফুটিয়ে তুলেছে।
ঈদের এই বিশাল জামাত পর্তুগালে বাংলাদেশিদের শক্তিশালী অবস্থান, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সুশৃঙ্খল সংস্কৃতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
এসএএস/বিআরইউ
