বিজ্ঞাপন

দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশে ফিরলো সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসী

দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশে ফিরলো সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসী

মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশি দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত নির্মাণ শ্রমিক আব্দুর রউফ।

একটি সড়ক দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না। রাজধানী ঢাকা কিংবা দূর পাল্লার বাসে প্রায়ই চোখে পড়ে এমন লেখা। তবে সেই লেখা বাস্তবে মিলে গেছে বগুড়ার আব্দুর রউফ ও তার পরিবারের সঙ্গে।

মালয়েশিয়ায় নির্মাণ শ্রমিক আব্দুর রউফ প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এরপর দেশটির মালাকার স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে একাধিক অস্ত্রোপচারসহ আলাদা করা হয় মাথার খুলির একটি অংশ।

দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে ধার দেনায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে ২০২৩ সালে কলিং ভিসায় মালয়েশিয়া পাড়িজমান তিনি। ঋণের বোঝা মাথা নিয়ে সেখানে দিন রাত কাজ করেন। সামান্য আয়ে ধীরে ধীরে অভাব কিছুটা দূর হতে থাকে। তবে চলতি বছরের মার্চ মাসে জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় এক অন্ধকার।

একটি দুর্ঘটনা জীবনকে থমকে দেয়। কয়েকমাস হাসপাতালের কোমায় থাকা রউফ চলাফেরা আর কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেন। ইতোমধ্যে জায়গা জমি বিক্রি করে প্রায় ১৮ লাখ টাকা তার চিকিৎসায় ব্যয় করে পরিবার। পরিবারের একমাত্র ছেলের এমন করুন পরিস্থিতিতে অসহায় বৃদ্ধ বাবা-মা, অর্থের অভাবে থেমে যায় চিকিৎসা।

বিষয়টি জানতে পেরে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ মিশনের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী এগিয়ে আসেন। তার দিকনির্দেশনায় দূতাবাসের লেবার মিনিস্টার মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং প্রেস সচিব তারিকুল ইসলাম গত শনিবার (৬ জুন) মালাকা গিয়ে আহত রউফের সার্বিক খোঁজ খবর নেয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেন।

ব্যয় বহুল চিকিৎসার অভাবে জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার প্রহর গুনছিল পরিবার, ঠিক এমন সময় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি সোশ্যাল ওয়ার্কার মোহাম্মদ হৃদয় মিয়া বিষয়টি হাইকমিশনের নজরে আনেন।

দরিদ্র পরিবারের পক্ষে যখন চিকিৎসার ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না তখন দূতাবাসে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করা হয়। তবে বাজেট স্বল্পতা আর নিয়ম নীতির কাছে দূতাবাসের বেশি কিছু করার ছিলো না। কিন্তু মানবিকতার কাছে নিয়মনীতি আর শর্ত আজীবন মূল্যহীন। অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় দূতাবাস।

সোমবার (৮ জুন) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরেন আহত রউফ। তাকে দেশে আনতে ফ্লাইটের যাবতীয় কার্যক্রম দ্রুত প্রসেস করে সহযোগিতা করে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাটি।

একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন করুণ পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকা সহায়তা দেয় প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এছাড়াও দেশে যাওয়ার পরে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার কথা জানায় বাংলাদেশ হাইকমিশন।

এমএন

ঢাকা পোস্ট প্রবাস বিভাগে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।