২০২৪ এর অগ্নিঝরা জুলাই আন্দোলন শুধুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর অগ্নি স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বজুড়ে যেসব দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীরা অবস্থান করছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়া জুড়ে জুলাই কোটা বিরোধী আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এসময় জুলাই সমর্থনে আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ ও নিউজ কাভারিং করার কারণে আটক হন প্রবাসী সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী।
২৪ সালের ১৯ জুলাই জিওমেট্রিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে পুলিশের হাতে আটক হন বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় কর্মরত প্রবাসী সাংবাদিক আশরাফুল মামুন ও একজন ছাত্র। সেসময় জুলাই আন্দোলনের সমর্থনে ওই ক্যাম্পাসে কয়েকশত শিক্ষার্থী এবং প্রবাসীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করছিলেন। এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশি আলী হায়দার।
মানববন্ধনে আশরাফুল মামুন সংবাদ সংগ্রহ করেছিলেন। তখন পুলিশ সাইরেন বাজিয়ে এসে তাকে ও একজন ছাত্রকে আটক করে সেতিওয়াংসা থানায় নিয়ে যায়। এসময় ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থীদের সমর্থন চেয়ে দেশটির জাতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় সাংবাদিক মনোয়ার আলম নির্ঝরকে পুলিশ আটক করে এবং পরে ২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেন।
জিওমেট্রিকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ১৯ জুলাইয়ের এদিনে কুয়ালালামপুরের আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, সাইবারজায়া বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ বিশ্ববিদ্যালয় ইউকেএমের ক্যাম্পাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাধারণ প্রবাসী ও কমিউনিটির নেতা কর্মীরাও সরাসরি মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন। সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দেশের ছাত্র ও শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। ক্যাম্পাস ছাড়াও কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন জায়গায় প্রবাসীরা মানববন্ধন করেছিল।
প্রবাসের মাটিতেও জুলাই আন্দোলনের সমর্থনে শত শত আন্দোলনকারীর বাঁধভাঙা ঢল দেখে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কাজাং থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়, আন্দোলনকারীরা সন্ত্রাসী, তাদের আটক করা হোক। পরে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে বোঝাতে সক্ষম হয় তারা কোনো সন্ত্রাসী নয়, তারা ঢাকার পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করেছে। পুলিশ পরে এ বিষয়টি নিয়ে আর কোনো তৎপরতা চালায়নি।
সেসময় সাংবাদিক আশরাফুল মামুন ও বাংলাদেশি ছাত্রকে আটকের বিষয়টি বাংলাদেশ কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। আটকের পর ১ জন পুলিশ ইন্সপেক্টর, ১ জন সাব ইন্সপেক্টর এবং ৩ জন বিশেষ গোয়েন্দা শাখার সদস্য তাদের ২ জনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এসময় পুলিশ বলেন, এটা বাংলাদেশ না, বিদেশে নিজ দেশের পক্ষে আন্দোলন করার নিয়ম নেই এবং এর জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়। পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে এ আন্দোলনে তাদের সম্মতি ছিল। পরে কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই ২ জন কে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আরএফ/এসএম
