প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্যস্ত কর্মজীবনের মধ্যেও কীভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা যায়-সে বিষয়কে সামনে রেখে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ স্বাস্থ্য সেমিনার।
রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় দুবাইয়ের এশিয়া রয়েল রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ সেমিনারে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসা গবেষক, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের অধ্যাপক, দ্য সেন্টার অব ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন, যুক্তরাষ্ট্রের কনসালট্যান্ট এবং আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. মজিবুল হক।
তিনি বলেন, প্রবাস জীবনে অধিকাংশ মানুষ পরিবারের স্বপ্ন পূরণে নিরলস পরিশ্রম করেন, কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি অনেক সময় অবহেলিত থেকে যায়। অনিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ধীরে ধীরে শারীরিক সমস্যা তৈরি করে। দীর্ঘমেয়াদে অনেক সময় তার প্রভাব দেখা দেয়।
কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে সংযমী খাদ্যাভ্যাস, পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা এবং পরিমিত জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আধুনিক লাইফস্টাইল মেডিসিনের গবেষণার আলোকে ব্যাখ্যা করেন, কেন সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হাঁটা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা একজন প্রবাসীর দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বলেন, সুস্থতা কোনো একদিনের অর্জন নয়, এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসের ফল। প্রতিদিন কী খাচ্ছি, কতটা হাঁটছি, কত ঘণ্টা ঘুমাচ্ছি এবং নিজের শরীরের প্রতি কতটা যত্নশীল-এসব বিষয়ই ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য নির্ধারণ করে।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ফ্যাটি লিভার, ভিটামিনের ঘাটতি, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।
প্রফেসর ড. মজিবুল হক সহজ ভাষায় বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রবাসজীবনের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বাস্থ্য পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলেন, বিদেশে বসবাসরত মানুষের জীবনধারা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তারা ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের সেমিনারের আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রাণবন্ত আলোচনা, অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি হয়।
আরএফ
