পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে কাজা দো বাংলাদেশে ও নোটিশিয়াস বাংলা আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে জমে উঠেছিল এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। বিশ্বখ্যাত ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দেশেই বাংলা গান আর বিনোদনের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। কালজয়ী গান দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন নগর বাউল জেমস, আর প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান।
রোববার (২৬ জুলাই) স্থানীয় ‘লিজ্বোআ আউ ভিবু’ (এলএভি) নামের একটি ইনডোর লাইভ মিউজিক ভেন্যুতে বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠান চলে রাত ১২টা পর্যন্ত। এতে পর্তুগালের বিভিন্ন শহর থেকে আসা প্রায় দুই হাজারেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেমস ও চিত্রনায়ক জাহেদ খানের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পর্তুগালে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই মিলনমেলা। দুই তারকার উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত উৎসবে। এতে অংশ নেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দের জোয়ার।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন নগর বাউল খ্যাত শিল্পী জেমস। এসময় তার কালজয়ী গানগুলোর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত দর্শকরা। অন্যদিকে জাহেদ খানও তার পরিবেশনা, দর্শকদের সঙ্গে আন্তরিক যোগাযোগ এবং প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করেন।
অনুষ্ঠানজুড়ে প্রবাসীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস, আনন্দ আর আবেগের মেলবন্ধন। প্রিয় শিল্পীদের সরাসরি দেখতে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। করতালি, উল্লাস এবং সম্মিলিত কণ্ঠে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়। নগর বাউল জেমস ছাড়াও স্থানীয় ব্যান্ডের শিল্পীরা গান পরিবেশন করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাতিয়ে রাখে।
উপস্থিত প্রবাসীরা বলেন, বিদেশের মাটিতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন তাদের দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে সহায়তা করে। ভবিষ্যতেও এমন আরও বড় পরিসরের অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
জাহেদ খানের অনুষ্ঠানে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পর্তুগিজ নাগরিক রনি মোহাম্মদ জানান, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা জাহেদ খানের একনিষ্ঠ ভক্ত। শুধুমাত্র তার জন্যই আমি অনুষ্ঠানে এসেছি, আর সুযোগ পেলে আমিও তার সঙ্গে একটু ডিগবাজি দিতে চাই।
পর্তুগালে বসবাস করা প্রবাসী ফারুক সিকদার বলেন, আজ আমাদের কাজ ছিল। বিশেষ করে আমার দোকান খোলা রাখার কথা ছিল। কিন্তু সব কাজ বন্ধ রেখে শুধু জাহেদ খানের অনুষ্ঠান দেখতে এখানে এসেছি সেই ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকে। আমি তার অনেক বড় ভক্ত। তাকে কাছ থেকে দেখতে পেরে আমি সত্যিই অনেক আনন্দিত। পর্তুগালে এটাই প্রথম কোনো অনুষ্ঠান যেখানে জেমস এবং জায়েদ খানকে একসঙ্গে দেখতে পারবো।
অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ভাষ্য, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাদের অনুপ্রাণিত করেছে।
আয়োজকদের অন্যতম রনি হোসাইন এবং রাসেল আহমেদ জানান, পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এমন একটি আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের এই দূর প্রবাসে এনে প্রবাসীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রবাসে থেকেও যেন সবাই বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারেন— এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের বিপুল সাড়া আমাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।
আয়োজক মোহাম্মদ মাসুম আহমেদ এবং ইকবাল হোসেন কাঞ্চন জানান, প্রবাসের মাটিতে আমাদের আয়োজন শুধুমাত্র পর্তুগালে বসবাস করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দেশীয় সংস্কৃতি প্রবাসের মাটিতে তুলে ধরার জন্যই আমরা এ ধরনের আয়োজন সবসময়ই করে থাকি এবং ভবিষ্যতেও করব।
অনুষ্ঠানটি প্রমাণ করেছে, ভৌগোলিক দূরত্ব যতই থাকুক না কেন, বাংলা গান, সংস্কৃতি এবং দেশের প্রতি ভালোবাসাই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের এক অদৃশ্য বন্ধনে একত্রিত করে।
জেআই
