মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
একই সঙ্গে প্রবাসীদের আর্থিক লেনদেন সহজ ও নিরাপদ করতে দেশটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি শাখা স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
রোববার (২৬ জুলাই) সরকারি সফরে মালদ্বীপে অবস্থানরত পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানী মালের পার্শ্ববর্তী দ্বীপ হুলহুমালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন পরিদর্শন করেন। এ সময় হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি কনস্যুলার সেবার আধুনিকায়ন, নিরাপদ অভিবাসন এবং বাংলাদেশ–মালদ্বীপ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে এসব গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।
মতবিনিময় সভায় ড. খলিলুর রহমান বলেন, মালদ্বীপে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সেবাপ্রাপ্তি সহজীকরণের ওপর জোর দেন তিনি। কনস্যুলার সেবাকে আরও জনবান্ধব, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানির ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেবার মানোন্নয়নে পেশাদারত্ব, জবাবদিহি এবং সেবাগ্রহীতাবান্ধব মনোভাব বজায় রাখারও নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম প্রবাসীদের আর্থিক লেনদেন আরও সহজ, নিরাপদ ও ব্যয়সাশ্রয়ী করতে দেশটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি শাখা স্থাপনের প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, লেনদেনের খরচ কমবে এবং দুই দেশের আর্থিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা লাভ করবে। এ সময় হাইকমিশনার চলমান কনস্যুলার কার্যক্রম, প্রবাসী কল্যাণমূলক উদ্যোগ, সেবার ডিজিটাল রূপান্তর ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
পরিদর্শনকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার দপ্তরের পরিচালক জাকির আহমেদ, সহকারী সচিব রাফিদ মাহবুব আহমদ এবং শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা কমান্ডো মনিরুজ্জামান।
হাইকমিশন পরিদর্শন শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ হাউসে যান। সেখানে তার সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম।
কূটনৈতিক মহলের মতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই পরিদর্শন শুধু আনুষ্ঠানিক সফরের অংশ নয়; বরং মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণ, রেমিট্যান্স ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও বহুমাত্রিক ভিত্তির ওপর সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিআরইউ
