সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুহাম্মদ রিদুয়ান তালুকদার নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ভোরে আমিরাতের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মরহুম রিদুয়ান তালুকদার (৪৭) চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার পূর্ব মেখলের বাকর আলী তালুকদার বাড়ির জালাল আহমদের ছেলে। সাত ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে রিদুয়ান তালুকদারের পা ভেঙে যায়। এর চিকিৎসার জন্য তাকে দীর্ঘদিন ধরে দেশে-বিদেশে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকতে হয়। চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে প্রচুর অর্থও খরচ হয় তার পরিবারের।
শারজায় তার গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশের (স্পেয়ার পার্টস) একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার কারণে নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে সময় দিতে না পারায় তার ব্যবসায় বড় ধরনের মন্দা দেখা দেয়।
দেড় মাস আগে চিকিৎসা শেষে কিছুটা অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি পুনরায় আমিরাতে ফিরে যান। তবে ব্যবসার আর্থিক ক্ষতি এবং দেনার চাপ নিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত চরম মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। এদিকে তার দোকানের লাইসেন্সের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি ব্যবসায় নতুন অংশীদার (পার্টনার) নেওয়া কিংবা দোকানটি বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, আশানুরূপ কোনো সহযোগিতা পাননি।
এই টানাপোড়েনের মাঝেই গত ২৮ জুলাই রাতে তিনি হঠাৎ নিজ দোকানেই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। বিষয়টি কারো জানা না থাকায় পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত তিনি দোকানের ভেতরেই অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকেন। পরে খবর পেয়ে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে শারজার আল কাসিমিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় একই দিন রাত ৮টায় তাকে কাসিমিয়া হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর করে দুবাই কুয়েত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পরও তার অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) শেষ রাতে ভোর ৩টা ১৬ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মরহুমের ভাগিনা শরীফ ও ভাতিজা মিশু জানান, বর্তমানে যাবতীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াদি সম্পন্ন করার কাজ চলছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়া মাত্রই মরহুমের মরদেহ দ্রুত দেশে স্বজনদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
জেআই
