বিজ্ঞাপন

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী পাচার, ১৫ তম ট্রিপে ধরা পাচারকারী

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী পাচার, ১৫ তম ট্রিপে ধরা পাচারকারী

মালয়েশিয়ায় ফাকরি নামে ৩১ বছর বয়সি এক অভিবাসী পাচারকারীকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

চলতি বছরের জুন মাস থেকে এই অপরাধে জড়িয়ে ১৫টি ট্রিপ সম্পন্ন করার পর রোববার (১৬ আগস্ট) ভোরে তিনি গ্রেপ্তার হন। তিনি অবৈধ অভিবাসীদের পারাপার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দেশটির কোটা বারুর পেন্ডেকে একটি প্রোটন উইরা গাড়িতে পাঁচজন কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশি অভিবাসীকে পরিবহন করার সময় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।

মালয়েশিয়ার জেনারেল অপারেশনস ফোর্স (জিওএফ) জানায়, গ্রেপ্তার ফাকরি যাত্রার দূরত্বের ওপর নির্ভর করে সাধারণত প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে ৫০ থেকে ৬ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত নিতেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি জিওএফকে বলেন, ‘আমি সাধারণত প্রত্যেক অভিবাসীকে তাদের প্রবেশ এলাকা থেকে রাজ্যের মধ্যে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিলে ৩০০ রিঙ্গিত পাই। কেলান্তানের বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে, যাত্রার দূরত্বের উপর নির্ভর করে আমি জনপ্রতি ৬০০ রিঙ্গিত বা তার বেশি চার্জ করি। জুন মাসে এই কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার পর থেকে আমি প্রায় ১৫টি অভিবাসী পাচারের ট্রিপ দিয়েছি।’ তার গন্তব্যের মধ্যে কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর, জোহর এবং কেলান্তান অন্তর্ভুক্ত ছিল।

জেনারেল অপারেশনস ফোর্স (জিওএফ) কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফাকরির দৌড়ের অবসান ঘটে। জিওএফ তার গাড়ি তল্লাশি করে ১৯ থেকে ৪৭ বছর বয়সি পাঁচজন বাংলাদেশি পুরুষকে শনাক্ত করে, যারা বৈধ পরিচয়পত্র বা ভ্রমণ নথি দেখাতে ব্যর্থ হন।

জিওএফ দক্ষিণ-পূর্ব ব্রিগেডের কমান্ডার সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার আহমদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি গন্তব্যের ওপর নির্ভর করে প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে ৫০ থেকে ৬ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত অর্থ আদায় করতেন।

সন্দেহভাজন ব্যক্তি জিওএফ কর্মকর্তাদের জানান যে, প্রতিটি ডেলিভারি সম্পন্ন করার পর তিনি নগদ অর্থ পেতেন এবং এই টাকা থাইল্যান্ড-ভিত্তিক একজন পুরুষ ও একজন মহিলা এজেন্টের কাছ থেকে কোটা বারুতে সংগ্রহ করা হতো।

কমিশনার আহমদ বলেন, অভিবাসীরা থাইল্যান্ডে এক নারী দালালের সঙ্গে লেনদেন করে এবং প্রত্যেকে ৬ হাজার রিঙ্গিত পরিশোধ করার পর কোটা বারুর কেলান্তান নদী দিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তির মাদক পরীক্ষার ফলাফলও পজিটিভ এসেছে এবং ১৯৫২ সালের বিপজ্জনক মাদকদ্রব্য আইনের অধীনে তার বিরুদ্ধে পূর্ব রেকর্ড ছিল।

তিনি বলেন, পরবর্তী তদন্তের জন্য সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও পাঁচজন অভিবাসীকে কোটা বারু জেলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এসএএস

ঢাকা পোস্ট প্রবাস বিভাগে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।