কুয়েতে ভিজিট ভিসা থেকে রেসিডেন্সি বা ওয়ার্ক পারমিটে রূপান্তরের সুযোগ নিয়ে প্রতারণার আশঙ্কায় প্রবাসীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাস জানিয়েছে, ভিজিট ভিসা থেকে সরাসরি রেসিডেন্সি পারমিটে রূপান্তরের সুযোগ সব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত নয়। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও কর্মদক্ষতা ও উচ্চতর ডিগ্রিধারীরা এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন।
১৫০ দিনার ফি দিয়ে ভিজিট থেকে কাজের ভিসায় স্থানান্তরের খবর স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সোস্যাল মিডিয়াতে ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ার ফলে বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের প্রচুর সংখ্যক প্রবাসী ভিজিট ভিসার আবেদন জমা পড়ে। আবেদনে তথ্য পরিপূর্ণতা না থাকায় বাতিল করে দেওয়া হয় বেশিরভাগ আবেদন।
কুয়েতে অবস্থানরত ও কুয়েতে আসতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এই বিষয়ে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়ের ভিজিট ভিসায় এসে উচ্চশিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা বিশেষ কারিগরি দক্ষতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
এছাড়া কোনো ব্যক্তি কাজের ভিসায় কুয়েতে এসে রেসিডেন্সি প্রক্রিয়া শুরু করার পর জরুরি প্রয়োজনে নিজ দেশে গেলে এবং এক মাসের মধ্যে বিজনেস ভিজিট ভিসায় কুয়েতে ফিরে এলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ওয়ার্ক পারমিট সম্পন্ন করার সুযোগ থাকতে পারে।
ফ্যামিলি ভিসার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ শর্ত। আবেদনকারীর মাসিক বেতন কমপক্ষে ৮০০ কুয়েতি দিনার হতে হবে। নির্দিষ্ট শর্তে স্ত্রী, ১৮ বছরের কম বয়সী ছেলে এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত মেয়ের ক্ষেত্রে ভিজিট ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকের জন্য ১৫০ কুয়েতি দিনার ভিসা পরিবর্তন ফি, স্বাস্থ্যবীমা ও রেসিডেন্সি স্ট্যাম্পের নির্ধারিত খরচ দিতে হবে।
তবে দূতাবাস স্পষ্ট করেছে—ভিজিট ভিসা পরিবর্তন করে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার এই সুবিধা সব দেশ বা সব জাতীয়তার নাগরিকের জন্য একইভাবে প্রযোজ্য নয়। কুয়েতের শ্রমবাজারের চাহিদা এবং রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্সের মহাপরিচালকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এ ধরনের অনুমোদন দেওয়া হবে।
তাই ভিজিট ভিসাকে রেসিডেন্সি বা ওয়ার্ক পারমিটে পরিবর্তনের নামে কেউ যদি নিশ্চিতভাবে ভিসা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ দাবি করে, তাহলে যাচাই ছাড়া টাকা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
সাদেক রিপন/এসএইচএ
