মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের হস্তক্ষেপে বকেয়া বেতন পেলেন ১২৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক। চলতি আগস্ট মাসের ২১ তারিখ ৩ মাসের বকেয়ার প্রথম বেতন পরিশোধ করে কোম্পানিটি।
দেশটির পাহাং রাজ্যের প্লাইউড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মেনটাকাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন বিএইচডিতে কর্মরত বাংলাদেশিসহ প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক জানিয়েছিলেন, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তাদের বেতন দেওয়া হয়নি। যার ফলে তাদের এবং দেশে থাকা তাদের পরিবার আর্থিক সংকটে চরম দুর্ভোগে দিন পার করছেন।
এর আগে 'মালয়েশিয়ায় ১২৬ বাংলাদেশি কর্মীর ৩ মাসের বেতন বকেয়া' সংবাদ প্রকাশ হলে সেটি দূতাবাসের নজরে আসে। একইসঙ্গে কোম্পানির একজন বাংলাদেশি শ্রমিক গত ১১ আগস্ট হাইকমিশনে ফোন করে তাদের সমস্যার কথা জানান। খবর পেয়ে জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধানের জন্য দূতাবাস থেকে নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে শ্রমিকদেরও শান্ত থাকার আহ্বান জানায় দূতাবাস। এরপর সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১৩ আগস্ট দূতাবাস, নিয়োগকর্তা এবং কর্মী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে কোম্পানির প্রতিনিধি দূতাবাসের প্রতিনিধি দলকে প্রতিশ্রুতি দেয় ৩ কিস্তিতে ৩ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করবে। সেই অনুযায়ী ২১ আগস্ট ৩ মাসের বকেয়া বেতনের প্রথম কিস্তি পরিশোধ করা হয়। বাকি দুই মাসের বকেয়া চলতি মাসের ২৮ তারিখ এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখে ৩য় কিস্তির বকেয়া বেতন পরিশোধ করবে।
এদিকে বকেয়া বেতনের ১ম কিস্তি পেয়ে দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। কোম্পানিতে কর্মরত টাঙ্গাইলের সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ৩ মাস বেতন না পেয়ে দেশে থাকা পরিবারসহ নিজেরাও খুব আর্থিক কষ্টে দিন পার করছিলাম। দূতাবাসের সহায়তা না পেলে বেতন পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাও ছিল না। আমাদের এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য দূতাবাসের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
অন্যদিকে দূতাবাসের পক্ষ থেকে আহ্বান করা হয়, মালয়েশিয়ায় থাকা সব বাংলাদেশি শ্রমিকদের বেতন না পাওয়াসহ যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে কোনো আন্দোলন, ধর্মঘট থেকে বিরত থাকার। কেননা একটি ন্যায্য দাবির জন্য দেশটির শ্রম আইন ভঙ্গ করলে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ন্যায় বিচার পেতে বাধাগ্রস্ত হয়।
