কুয়েত–ঢাকা রুটে পুনরায় আজ (২৯ আগস্ট) হতে চালু হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকায়, দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর এই রুটে আবারও নিয়মিত বিমান চলাচল শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালু হওয়ায় কুয়েত–বাংলাদেশ রুটে অন্যান্য এয়ারলাইন্সের টিকিটের দামও কমতে শুরু করেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রীদের মধ্যে। ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কুয়েত কান্ট্রি ম্যানেজার এ কে এম ফরহাদ।
বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার বলেন, নিরাপত্তা ইস্যুতে কুয়েত রুটে বিমান বন্ধ ছিল। আজ থেকে পুনরায় চালু হলো জাতীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমান। প্রবাসীদের কথা বিবেচনা করে এই রুটে আমরা সবচেয়ে কম মূল্যে বিভিন্ন ফেয়ার চালু করেছি। দেশের রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে প্রবাসীদের বিমানে যাতায়াতের আহ্বান জানান তিনি।
কুয়েতে বাংলাদেশি জাতীয় মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, কুয়েত আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য জানান।
শহিদ সারোয়ার নামের এক প্রবাসী বলেন, বিমান চালু হওয়ায় কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা সহ অন্যান্য বিমান গুলোও ভাড়া কমিয়ে দিয়েছে। বিমানের ভাড়া কম, ব্যাগেজ সুবিধা ভালো। বিমান যদি সঠিক সময়ে যাতায়াত করে তাহলে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে।
বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় এখন যাত্রীদের সামনে বাড়ছে সরাসরি ভ্রমণের সুযোগ। একই সঙ্গে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ায় টিকিটের ভাড়াও কমে আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রবাসীরা আশা করছেন, বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট নিয়মিত ও নির্বিঘ্নভাবে পরিচালিত হলে কুয়েত–বাংলাদেশ রুটে বিমান ভাড়া আরও সহনীয় পর্যায়ে আসবে এবং যাত্রীদের ভোগান্তিও কমবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় কুয়েত থেকে বাংলাদেশগামী যাত্রীদের অনেকেই বাড়তি ভাড়া দিয়ে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছিলেন। বিশেষ করে ছুটির মৌসুম ও জরুরি প্রয়োজনে দেশে যেতে ইচ্ছুক প্রবাসীদের জন্য টিকিটের উচ্চমূল্য ছিল বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ। কুয়েত থেকে সরাসরি বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হয়েছে।
আরএফ
