মাদ্রিদে গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর আরও গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘লা সেক্সতা’-এর হাতে থাকা নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বরই স্থানীয় দমকল বাহিনী ওই বেসমেন্টে ব্যাটারি রাখা ও চার্জ দেওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিল। স্থানটি কেবল গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য অনুমোদিত হলেও সেখানে অবৈধভাবে ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি রাখা ও চার্জ দেওয়া হচ্ছিল।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মাদ্রিদ মিউনিসিপ্যাল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাটারিগুলো সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়। প্রথমে ব্যাটারিগুলো সরানো হলেও কয়েক সপ্তাহ পর ফের সেখানে একই কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি পুলিশের পরিদর্শনে আগের নির্দেশনা অমান্যের প্রমাণ মেলে, যার প্রেক্ষিতে একাধিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গত জানুয়ারি মাসে সংশ্লিষ্ট গ্যারেজ কর্তৃপক্ষ ইলেকট্রিক বাইসাইকেল চার্জ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম বৈধ করার জন্য এক আবেদন জমা দেয়। কিন্তু গ্যারেজে এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি হওয়ায় গত ফেব্রুয়ারিতে সেই আবেদন বাতিল করে কর্তৃপক্ষ এবং কার্যক্রমটি চূড়ান্তভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয়।
তবে এপ্রিল মাসে পুলিশের পরিদর্শনে দেখা যায়, বন্ধের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সেখানে আগের মতোই কাজ চলছিল। এরপর বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক গ্যারেজটি বন্ধের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। সরকারি নথি অনুযায়ী, কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ অমান্য করায় গত ৩১ জুলাই প্রথম দফায় ১ হাজার ইউরো জরিমানা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক বাইসাইকেলের চার্জিং পয়েন্ট, চার্জার অথবা ব্যাটারির ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত কারণ বলতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেসমেন্টের গ্যারেজটি ছিল অত্যন্ত আঁকাবাঁকা ও জটিল কাঠামোর। এত বিপুলসংখ্যক ই-বাইক রাখা ও চার্জের জন্য সেখানে জরুরি পরিস্থিতিতে মোকাবিলার উপযুক্ত ব্যবস্থা ছিল না, যা নিয়ে তারা আগে থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন।
বর্তমানে পুলিশ আগুনের মূল কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি নিহত ইউসুফসহ অন্য কোনো রাইডার ওই স্টোররুমে বসবাস করতেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে। স্পষ্ট অভিযোগ, বন্ধের কড়া নির্দেশ এবং অর্থদণ্ড কার্যকরের পরও কীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এ গ্যারেজ পরিচালিত হচ্ছিল—তা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।
জেআই
