সঠিক সময়ে নামাজ আদায় যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ

নামাজ শুধু ইবাদত নয়, বরং মুমিনের দৈনন্দিন জীবনের শৃঙ্খলা ও আত্মশুদ্ধির মূল ভিত্তি। কোরআন ও হাদিসে বারবার নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেছেন, মুমিনদের জন্য নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।
ইসলামী শরিয়তে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করাকে অপরিহার্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ১০৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মুমিনদের জন্য নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে বিধিবদ্ধ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও একাধিক হাদিসে সময়মতো নামাজ আদায়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
নবীজি (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যারা যথাযথভাবে নামাজ আদায় করবে, অবহেলা করবে না, তাদের জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা রয়েছে। আর যারা নামাজে গাফিলতি করবে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত। তিনি চাইলে শাস্তি দেবেন, চাইলে ক্ষমা করবেন।
একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরো তোমাদের বাড়ির সামনে একটি নির্মল পানির নদী বইছে, যেখানে তোমরা দিনে পাঁচবার গোসল করছো। এতে কি শরীরে কোনো ময়লা থাকতে পারে? সাহাবিরা বললেন, না। তখন নবীজি বলেন, ঠিক তেমনভাবেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মানুষের গুনাহ দূর করে দেয়।
আরেক হাদিসে তিনি বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ গুনাহ মোচনের মাধ্যম, যা বড় গুনাহ থেকেও মানুষকে বিরত রাখে। তিনি আরও বলেন, মুনাফিকদের সঙ্গে মুমিনদের পার্থক্য বোঝা যায় ফজর ও এশার নামাজে উপস্থিতির মাধ্যমে, কারণ এই দুই নামাজ তারা সাধারণত ছেড়ে দেয়।
নামাজের মর্যাদা বোঝাতে এক হাদিসে এসেছে, আল্লাহর কাছে যদি নামাজের চেয়েও প্রিয় কিছু থাকত, তবে তা ফেরেশতাদের ইবাদতের অংশ হতো। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ফেরেশতারা নামাজের বিভিন্ন অংশে রুকু, সিজদা, কিয়াম ও বসায় বিভক্ত হয়ে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কেউ যদি উত্তমভাবে অজু করে নামাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়, তবে পথেই সে নামাজের সওয়াব পেতে থাকে। তার প্রতিটি দুই কদমে একটি নেকি লেখা হয় এবং একটি গুনাহ মুছে দেওয়া হয়। এ কারণেই মসজিদে দূর থেকে আগত ব্যক্তির সওয়াব বেশি হয়।
হাদিসে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন মানুষের আমলনামা যাচাইয়ের সময় সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। নামাজ সঠিক হলে অন্যান্য আমলও গ্রহণযোগ্য হবে, আর নামাজে ঘাটতি থাকলে বাকি আমলও প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
নামাজ আদায়কারী একজন ব্যবসায়ীর মতো, যে পুঁজি উদ্ধার না করা পর্যন্ত লাভের আশা করতে পারে না। অর্থাৎ ফরজ নামাজ আদায় না করে নফল ইবাদতে পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যায় না।
হাদিসে আরও এসেছে, যে ব্যক্তি যথাসময়ে নামাজ আদায় করে, সঠিকভাবে অজু করে, খুশু-খুজুর সঙ্গে রুকু ও সিজদা সম্পন্ন করে, তার নামাজ উজ্জ্বল আলো হয়ে উঠে বলে, আল্লাহ তোমার যত্ন নিন, যেমন তুমি আমার যত্ন নিয়েছ। আর যে ব্যক্তি অবহেলা করে নামাজ আদায় করে, তার নামাজ অন্ধকার হয়ে ফিরে আসে এবং তাকে ভর্ৎসনা করে।
জামাতে নামাজের ফজিলত
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একাকী নামাজের তুলনায় জামাতে নামাজের সওয়াব ২৭ গুণ বেশি। আরেক হাদিসে এসেছে, এশার নামাজ জামাতে আদায় করলে অর্ধরাত ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যায়, আর ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করলে পুরো রাত ইবাদতের মর্যাদা লাভ হয়।
নির্ধারিত সময়ে ও জামাতে নামাজ আদায় মুমিনের ঈমানকে শক্তিশালী করে এবং তার ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনকে শুদ্ধতার পথে পরিচালিত করে।
এনটি