‘শবে বরাত’ নিয়ে যা বলছে আমিরাতের ফতোয়া কাউন্সিল

শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাতকে শবে বরাত বলা হয় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। তবে মধ্যপ্রাচ্য ও আরব বিশ্বে একে বলা হয় লাইলাতুল বরাত বা লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান। হাদিসে এ রাতকে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশ ও অঞ্চলভেদে রাতটি উদযাপনে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। বাংলাদেশে এ রাত উপলক্ষে হালুয়া-রুটি খাওয়া ও রাতে বাসা-বাড়ি ও মসজিদে নফল ইবাদত করার প্রবণতা দেখা যায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে শাবান মাসের মধ্যরাত উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী হাগ আল লায়লা উৎসব উদযাপন করা হয়। এ রাতে একে অপরকে উপহার প্রদান করেন। শিশুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি চেয়ে বেড়ায় এবং রমজানের আগমনের আগে আনন্দ ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
শাবান মাসের মধ্যরাত উপলক্ষে আমিরাতের বাসিন্দাদের এই উদযাপনকে শরিয়তসম্মত ও বৈধ বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ফতোয়া কাউন্সিল। রোববার দেওয়া এক ব্যাখ্যায় কাউন্সিল জানায়, শরিয়াহ নীতিমালা মেনে এ উৎসব উদযাপনে কোনো বাধা নেই। বরং এ রাতে উপহার আদান-প্রদান ও আনন্দ ভাগাভাগি পরিবার ও সমাজে সৌহার্দ্য ও বন্ধন দৃঢ় করে।
প্রতি বছর রমজান শুরুর প্রায় ১৫ দিন আগে শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতে আমিরাতজুড়ে হাগ আল লায়লা উদযাপন করা হয়। এটি দেশটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি সামাজিক আয়োজন।
ফতোয়া কাউন্সিল জানায়, হাগ আল লায়লা উদযাপন একটি সামাজিক রীতি, যার মূলনীতি হলো বৈধতা। কারণ, দুনিয়াবি রীতিনীতি সম্পর্কে ইসলামের মূল বিধান হলো অনুমোদন। এ ছাড়া শরিয়ত যেসব বিষয়ে নীরব থেকেছে, সেগুলো ক্ষমাযোগ্য বলেও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
হাগ আল লায়লার একটি পরিচিত দৃশ্য হলো, শিশুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘আতুনা হাগ আল লায়লা’ বলে মিষ্টি চায়, এটি রমজানের আগমনের আগে আনন্দ ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
ধর্মীয় দিক থেকেও শাবান মাসের মধ্যরাতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে ফতোয়া কাউন্সিল। নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও দান-সদকার মাধ্যমে এ রাত কাটানোর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সাহাবি, তাবেয়ি ও পরবর্তী অনেক আলেম এই রাতের ফজিলত বর্ণনা করেছেন বলেও জানানো হয়।
আলেমদের মতে, শাবান মাসের এই মধ্যরাত একদিকে আনন্দের, অন্যদিকে আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের অনন্য সুযোগ। তাই পরিবার ও সমাজের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য এই রাতকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আমিরাতে হাগ আল লায়লা উদযাপন করা হয়েছে সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক আয়োজন পালিত হয়েছে হাগ আল লায়লা।
সূত্র : খালিজ টাইমস
এনটি