রমজান মাসের ৩০ আমল

রোজা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেনো তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারো। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)
রোজা শুধু পানাহাদর থেকে বিরত থাকার নাম নয়, বরং তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রেখেও অশ্লীল কাজ ও পাপাচার ত্যাগ করতে পারল না, তার পানাহার ত্যাগ করার কোনো মূল্য নেই।’ (বুখারি, হাদিস, ৬০৫৭)
রোজা রেখে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় এমন ৩০টি আমল তুলে ধরা হলো—
১. তারাবি
রমজানে অন্যতম রাত্রিকালীন ইবাদত তারাবি নামাজ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে তারাবি নামাজ আদায় করে, তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।’ (বুখারি, হাদিস : ২০৪৭)
আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখেন, তারাবি নামাজ পড়েন এবং কদরের রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত করেন, তার জীবনের আগের সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (মিশকাত, হাদিস : ১৮৬২)
২. তাহাজ্জুদ
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে তাহাজ্জুদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন। তবে তিনি অবশ্যপালনীয় বিষয় হিসেবে নির্দেশ দেননি। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও নিষ্ঠার সঙ্গে রমজানে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার পূর্ববর্তী পাপ মার্জনা করবেন। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২১৯৭)
৩. কোরআন তিলাওয়াত
কোরআন নাজিলের মাস রমজান। এই মাসে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করতেন মহানবী (সা.)। জিবরাঈল (আ.)-এর কাছে কোরআন তিলাওয়াত শুনাতেন তিনি।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, রমজানের প্রতি রাতে জিবরাইল (আ.) রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে দেখা করতেন। তারা পরস্পরকে কোরআন শোনাতেন।
আল্লামা ইবনে রজব (রহ.) বলেন— হাদিসটি প্রমাণ করে যে, রমজানে কোরআন শিক্ষা করা এবং তার জন্য একত্র হওয়া তথা কোরআন শিক্ষার আসর করা মুস্তাহাব। (লাতায়িফুল মায়ারিফ, রোজা অধ্যায়)
৪. ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়
রমজান ইবাদতের মাস। এ মাসে জামাতে নামাজ আদায়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এক হাদিসে জামাতে নামাজ আদায়ের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়া একাকী নামাজ পড়ার চেয়ে ২৭ গুণ বেশি মর্যাদার।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৫)
৫. সেহরি খাওয়া
শেষ রাতের খাবারকে সেহরি বলা হয়। সেহরি শব্দের অর্থ ভোরের খাবার। রোজার উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময়ে যে পানাহার করা হয়, সেটাকে ইসলামের পরিভাষায় সেহরি বলে।
সেহরি অত্যন্ত বরকতময় খাবার। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, কারণ সাহরিতে বরকত আছে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯২৩)
৬. দেরিতে সেহরি খাওয়া
একটু দেরিতে সাহরি খাওয়া সুন্নত। রাসুল (সা.) সবসময় শেষ সময়ে সেহরি খেতেন। ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বক্ষণে সেহরি খেলে রোজা রাখতে বেশি সহজ হয়। পাশাপাশি ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না।
৭. ইফতার করা
রোজা রাখার পর যে খাবারের মাধ্যমে রোজার সমাপ্তি হয় তাকে ইফতার বলে।
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ। একটি আনন্দ হচ্ছে যখন সে ইফতার করে। আরেকটি হচ্ছে যখন সে প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৭৬৬)
৮. তাড়াতাড়ি ইফতার করা
রাসুল (সা.) তাড়াতাড়ি অর্থাৎ সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করতে বলেছেন। এতে কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
এক হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যতদিন লোকেরা দ্রুত ইফতার করবে, ততদিন দ্বীন স্পষ্ট ও বিজয়ী থাকবে, কেননা ইহুদি ও খ্রিস্টানরা বিলম্বে ইফতারি করে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫০)
৯. ইফতারের দোয়া পড়া
নবী (সা.) ইফতারের সময় দোয়া করতেন। নবী (সা.) যখন ইফতার করতেন, বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ, তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার রিজিক দিয়ে ইফতার করেছি।’ (আবু দাউদ হাদিস : ২৩৫৮)
১০. অন্যকে ইফতার করানো
রোজাদারকে ইফতার করানো অনেক বড় সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার জন্য রোজাদারের প্রতিদান সমান প্রতিদান দেওয়া হবে এবং রোজাদারের প্রতিদান থেকেও কোনো প্রতিদান কমানো হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৭)
১১ . দান-সদকা
রাসুল (সা.) রমজানে সবচেয়ে বেশি দান করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা। রমজানে তার দানশীলতা অন্য সময় থেকে অধিকতর বৃদ্ধি পেত। (বুখারি, হাদিস : ০৬)।
১২. সদকাতুল ফিতর আদায়
ঈদুল ফিতরের আগে সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। ঈদের দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য (ঘর, কাপড়, গাড়ি ইত্যাদি)-এর অতিরিক্ত সম্পদ আছে এমন ব্যক্তির ওপর সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, গোলাম, স্বাধীন, পুরুষ, নারী, ছোট, বড় সব মুসলিমের ওপর রাসূলুল্লাহ সা. এক ‘সা’ খেজুর, অথবা এক ‘সা’ গম জাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন এবং ঈদের নামাজের পূর্বে তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। (মুসলিম, হাদিস : ৯৮৪)
১৩. যাকাত আদায়
রমজানে প্রত্যেক ইবাদত ফজিলতপূর্ণ। কারো ওপর যাকাত ফরজ হলে বছরের যেকোনো সময় যাকাত আদায় করতে পারেন। তবে রমজান মাসেও যাকাত আদায় করতে পারেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমার ইসলামের (ঈমান) পরিপূর্ণতা হলো তুমি তোমার সম্পদের জাকাত দাও।’ (আত-তারগিব ওআত-তারহিব, হাদিস : ১২)
১৪. বেশি বেশি নফল ইবাদত
রমজানে বেশি বেশি নফল ইবাদত করা উচিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। (শুয়াবুল ইমান ৩/৩০৫)
১৫. জুমার দিন তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া
পুরো বছর এবং রমজান মাসে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মসজিদে যাওয়া উচিত। এক হাদিসে হজরত আউস ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি—
যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করাবে (জুমার নামাজের পূর্বে স্ত্রী-সহবাস করে তাকেও গোসল করাবে) এবং নিজেও গোসল করবে অথবা উত্তমরূপে গোসল করবে। এরপর ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে আসবে, আসার সময় হেঁটে আসবে, কোনো বাহনে চড়বে না, ইমামের কাছাকাছি বসবে, এরপর দুটি খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং (খুতবার সময়) কোনো অনর্থক কাজকর্ম করবে না, সে মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপে একবছর নফল রোজা ও একবছর নফল নামাজের সওয়াব পাবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)
১৬. ওমরাহ পালন করা
রমজানে ওমরাহ পালনের বিশেষ সওয়াব রয়েছে। যাদের সামর্থ্য রয়েছে তারা রমজান মাসে ওমরাহ পালন করতে পারেন।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) এক আনসারি নারীকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে হজ করতে তোমার বাধা কিসের?’ওই নারী বলল, ‘আমাদের একটি পানি বহনকারী উট ছিল; কিন্তু তাতে অমুকের পিতা ও তার পুত্র (অর্থাৎ মহিলার স্বামী ও ছেলে) আরোহণ করে চলে গেছেন। আর আমাদের জন্য রেখে গেছেন পানি বহনকারী আরেকটি উট, যার দ্বারা আমরা পানি বহন করে থাকি।’ নবী (সা.) বলেন, ‘আচ্ছা, রমজান এলে তখন ওমরাহ করে নিয়ো। কেননা রমজানের একটি ওমরাহ একটি হজের সমতুল্য।’ (বুখারি, হাদিস : ১৭৮২)
১৭. তওবার নামাজ পড়া
মানুষ প্রতি মুহূর্তে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়। গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করা উচিত। গুনাহের কাজ সংঘটিত হওয়ার পরপরই ক্ষমা লাভের উদ্দেশ্যে অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়াকে সালাতুত তওবা বা তওবার নামাজ বলে। রমজান এবং বছরের যেকোনো সময় তওবার নামাজ পড়া যায়।
১৮. সালাতুত তাসবিহ পড়া
নফল নামাজগুলোর মধ্যে সালাতুতু তাসবিহ অন্যতম। সালাতুত তাসবিহের নামাজের ফজিলতের মধ্যে অন্যতম হলো- বিগত জীবনের গুনাহ মাফ হওয়া ও বিপুল সাওয়াব লাভ। রাসুল (সা.) জীবনে একবার হলেও এই নামাজ পড়তে বলেছেন।
সালাতুত তাসবিহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এখানে।
১৯. মাসনূন দোয়া পড়া
মাসনূন দোয়া বলতে প্রতিদিনের প্রত্যেক কাজের শুরু ও শেষে হাদিসে বর্ণিত দোয়া। যেমন, ঘর থেকে বের হওয়া, যানবাহনে উঠার দোয়া, খাবার শুরু-শেষ ও বাথরুমে যাওয়া ও বের হওয়ার দোয়া। রমজান ও বছরের অন্য সময়গুলোতে এই দোয়াগুলোতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
২০. ইস্তেগফার পড়া
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.)বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করে আল্লাহ তায়ালা তার সব সংকট থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা করে দেন, তার সব পেরেশানী দূর করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস, ১৫১৮)
২১. রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করা
রমজানের শেষ দশকের গুরুত্বপূর্ণ আমল ইতিকাফ। রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফের বিধান সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। মহল্লার অন্তত অল্প কিছু মানুষ বা একজনের জন্য ইতিকাফ করা আবশ্যক। নারীদের জন্য ইতিকাফ মুস্তাহাব। তারা নিজেরদের বাড়িতে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বানিয়ে সেখানে অবস্থান করবেন এবং সেখানে ইবাদত করবেন।
২২ . লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা
কদর রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই রাত পাওয়ার জন্য নবীজি সা. রমজানের শেষ দশক ইবাদতের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করতেন।
নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে নফল সালাত আদায় ও রাত জেগে ইবাদত করবে আল্লাহ তার পূর্বের সকল সগীরা (ছোট) গুনা ক্ষমা করে দেন।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯০১)।
২৩. আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর রাখা
আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নেওয়া ও তাদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া রাসুল (সা.)-এর সুন্নত। এ বিষয়ে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আখেরাতে বিশ্বাস করে, সে যেন আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১৩৮)
২৪. গিবত, মিথ্যা ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা
ইসলামের দৃষ্টিতে গিবত বা পরনিন্দা মারাত্মক গুনাহগুলোর একটি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ব্যভিচার করার পর মানুষ আল্লাহর কাছে তওবা করলে আল্লাহ তায়ালা তওবা কবুল করেন। কিন্তু গিবতকারী ব্যক্তিকে যে পর্যন্ত ওই ব্যক্তি (যার গিবত করা হয়েছে) ক্ষমা না করে; ততোক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না।’ (মিশকাত)।
২৫. জিকির করা
পবিত্র কোরআনে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করতে বলা হয়েছে। অন্য কোনো ইবাদত সম্পর্কে এমন কথা বলা হয়নি। আল্লাহর জিকির মানুষকে সব ধরনের গুনাহ থেকে রক্ষা করে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে যাতে তোমরা সফলতা অর্জন কর।(সূরা আনফাল : ৪৫)
২৬. মা-বাবার খেদমত করা
আবু উমামা রা. সূত্রে বর্ণিত, ‘এক লোক রাসুলুল্লাহ সা.-কে জিজ্ঞাসা করল, সন্তানের ওপর মা-বাবার কী হক? রাসুলুল্লাহ সা. বললেন, মা-বাবা হয়তো তোমার জন্য জান্নাত কিংবা জাহান্নাম’ (ইবনে মাজা : ৩৬৬২)।
২৭. অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া
ইসলামের দৃষ্টিতে কেউ অসুস্থ হলে সেবা-শুশ্রূষা ইত্যাদি পাওয়া তার অধিকার। রোগী ও অসুস্থকে দেখতে যাওয়া মহানবী (সা.)-এর সুন্নত।
হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা ক্ষুধার্তদের অন্ন দাও, রোগীদের সেবা করো এবং বন্দিদের মুক্তি দাও। (বুখারি, হাদিস : ৫৬৪৭)
২৮. নবীজি (সা.) ও সাহাবিদের জীবনী সম্পর্কে বই পড়া
রাসুল (সা.) ও সাহাবিরা আমাদের জীবনের অনুসরণীয়। রমজান মাসে তাদের জীবনী সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ পাঠ করা উচিত।
২৯. রমজান সম্পর্কিত মাসআলা-মাসায়েল জানা
রমজান মাসে রমজানের বিধি-বিধান সম্পর্কিত বইপত্র পড়া উচিত। এতে করে ত্রুটিমুক্ত রোজা আদায় করা সম্ভব এবং রোজার প্রকৃত ফজিলত লাভ করা সম্ভব।
৩০. বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করা
আল্লাহর রাসুলের ওপর দরুদ পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার রহমত লাভ করা যায়। এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর দশটি রহমত বর্ষণ করেন এবং তার দশটি গুনাহ মাফ করে দেন, আর তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।’ (নাসায়ী, হাদিস, ১২৯৭)
এনটি