এক সালামে ৪ রাকাত তারাবি পড়া যাবে?

রমজানে রাত্রিকালে এশার নামাজের চার রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নতের পর এবং বিতর নামাজের আগে দুই রাকাত করে ১০ সালামে যে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়, একে ‘তারাবি নামাজ’ বলা হয়। তারাবির নামাজের সময় হলো- এশার নামাজের পর থেকে ফজরের নামাজের আগ পর্যন্ত।
তারাবি নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। অপারগতা ছাড়া তা পরিত্যাগকারী গুনাহগার হবে। পুরুষদের জন্য মসজিদে জামাতের সঙ্গে তারাবির নামাজ আদায় করা সুন্নত। নারীদের জন্যও ২০ রাকাত তারাবি সুন্নত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) তারাবির নামাজে অংশ নিতেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তা ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জামাতে অংশ নেননি। তবে তিনি ঘরে তারাবির সময় নামাজ আদায় করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তারাবির জামাতে অংশ না নিলেও উম্মতকে তারাবির প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও পরকালের আশায় রমজানের রাতে কিয়ামুল লাইল (তারাবি) আদায় করবে, তার অতীতের পাপ মার্জনা করা হবে।’ (নাসায়ি, হাদিস : ২২০৫)
তারাবি নামাজ সাধারণত দুই রাকাত করে পড়া হয়। দুই রাকাত পড়ে বৈঠক ও সালাম ফেরানোর মাধ্যমে তারাবি নামাজ শেষ হয়। এরপর আবার নতুন করে দুই রাকাত তারাবি পড়া হয়।
এভাবে তরাবির নামাজে দুই দুই রাকাত করে সালাম ফিরানো উত্তম এবং সুন্নত। তবে যদি চার রাকাত একসঙ্গে আদায়ের পর সালাম ফিরানো হয় তাহলে সেই তারাবি নামাজও হয়ে যাবে, শর্ত হলো দ্বিতীয় রাকাতের পর তাশাহহুদ পরিমাণ বসতে হবে। কিন্তু চার রাকাত করে পড়া উত্তম নয়, তাই ইচ্ছাকৃতভাবে এমন করা মাকরূহ।
রমজান মাসের পুরোটা সময় বরকতপূর্ণ ও ইবাদতের জন্য নির্ধারিত। এ মাসে যেকোনো ইবাদত করা হলে তার সওয়াব বাড়িয়ে দেওয়া হয়। নফল আদায়ে ফরজের সমতুল্য সওয়াব দেওয়া হয় এবং ফরজ আদায় করলে কয়েকগুণ বেশি সওয়াব দেওয়া হয়।
আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানে একটি নফল আমল করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি নফল আদায় করল।’ (মিশকাত, হাদিস, ১৮৬৮)
হাদিসের ফজিলতের আলোকে বলা যেতে পারে রমজানে তারাবি নামাজের সওয়াবও এই হিসেবে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, তারাবি নামাজ আদায়কারীকে ফরজের সওয়াব প্রদান করা হবে।
এনটি