তারাবিতে ভুলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কী?

রমজানের রাত্রীকালীন ইবাদত তারাবি নামাজ । এশার নামাজের চার রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নতের পর এবং বিতর নামাজের আগে দুই রাকাত করে ১০ সালামে যে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়, তাকে ‘তারাবি নামাজ’ বলা হয়। এশার নামাজের পর থেকে ফজরের নামাজের আগ পর্যন্ত তারাবি নামাজের সময়। এশার নামাজের আগে তারাবি পড়া যাবে না।
তারাবি নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। অপারগতা ছাড়া তা পরিত্যাগকারী গুনাহগার হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তারাবির নামাজে অংশ নিতেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তা ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জামাতে অংশ নেননি। তবে তিনি ঘরে তারাবির সময় নামাজ আদায় করতেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তারাবির জামাতে অংশ না নিলেও উম্মতকে তারাবির প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও পরকালের আশায় রমজানের রাতে কিয়ামুল লাইল (তারাবি) আদায় করবে, তার অতীতের পাপ মার্জনা করা হবে।’ (নাসায়ি, হাদিস : ২২০৫)
তারাবি নামাজ সাধারণত দুই রাকাত করে পড়া হয়। দুই রাকাত পড়ে বৈঠক ও সালাম ফেরানোর মাধ্যমে তারাবি নামাজ শেষ হয়। এরপর আবার নতুন করে দুই রাকাত তারাবি পড়া হয়।
তারাবি নামাজে কেউ যদি দ্বিতীয় রাকাতে না বসে ভুলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায় এবং তৃতীয় রাকাতে সিজদা করার পর মনে পড়ে তাহলে তার করণীয় কী? সাথে আরও এক রাকাত মিলিয়ে মোট চার রাকাত আদায় করি এবং শেষে সাহু সিজদা করি।
এ বিষয়ে ইসলামী আইন ও ফেকাহবিদদের মতামত হলো— তারাবির নামাজে প্রত্যেক দুই রাকাত শেষে বৈঠক করা ফরজ। ভুলবশত কেউ দুই রাকাতের পর বৈঠক না করে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলে নিয়ম হল—
তৃতীয় রাকাতের সিজদা করার আগে আগে ভুলটি বুঝতে পারলে বৈঠকে ফিরে আসা এবং নামায শেষে সাহু সিজদা করা। কিন্তু এক্ষেত্রে তৃতীয় রাকাতের সিজদা করে নিলে এরপর আর বৈঠকে ফিরে আসার সুযোগ থাকে না এবং ফরজ বৈঠক ছাড়ার কারণে পূর্বের দুই রাকাত বাতিল হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে তৃতীয় রাকাতের সাথে যদি আরও এক রাকাত মিলিয়ে চার রাকাত পড়ে নেয় এবং নামাজ শেষে সাহু সিজদা করে তাহলে পরবর্তী দুই রাকাত সহীহ বলে ধর্তব্য হয়।
তাই এমন ক্ষেত্রে তৃতীয় রাকাতের পর আরও এক রাকাত পড়ে নিলে পরবর্তী দুই রাকাত তারাবি নামাজ হিসেবে গণ্য হবে এবং এক্ষেত্রে পূর্বের দুই রাকাত বাতিল গণ্য হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৮)
এনটি