ইতিকাফের সময় নারীরা ঘরের কাজ করতে পারবেন?

রমজানের শেষ দশকের গুরুত্বপূর্ণ আমল ইতিকাফ। ইতিকাফের ফজিলত সম্পর্কে এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির নিয়তে যে ব্যক্তি মাত্র একদিন ইতিকাফ করবে আল্লাহ তায়ালা তার ও জাহান্নামের মাঝে তিনটি পরিখার সমান দূরত্ব সৃষ্টি করে দিবেন। প্রতিটি পরিখার দূরত্ব হবে আসমান-জমিনের মধবর্তী দূরত্বের সমান।’
পুরুষের জন্য রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। অর্থাৎ মহল্লার মসজিদে পুরুষদের মধ্যে একজনও যদি ইতিকাফ করে তাহলে পুরো মহল্লাবাসী দায়মুক্ত হয়ে যাবে। আর নারীদের জন্য ইতিকাফ করা মুস্তাহাব।
নারীরা মসজিদের পরিবর্তে ঘরে নির্ধারিত স্থানে ইতিকাফ করবেন। যদি আগে থেকেই ঘরে নামাজের জন্য কোনো স্থান নির্ধারিত না থাকে তাহলে ইতিকাফের জন্য একটি স্থান নির্ধারিত করে নিবেন। এরপর সেখানে ইতিকাফ করবেন।
ইতিকাফের সময় নারীরা রান্না ও ঘরের কাজ করতে পারবেন?
ইতিকাফের জন্য নারীদের যে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়, তা নারীর জন্য পুরুষদের মসজিদের সমতুল্য। তাই ইতিকাফ অবস্থায় স্বাভাবিক বা শরিয়তসম্মত প্রয়োজন ছাড়া সেই স্থান থেকে বাইরে বের হওয়া নারীর জন্য বৈধ নয়। সুতরাং নারী ইতিকাফের জায়গা থেকে বের হয়ে রান্নাবান্না বা ঘরের কাজ করার জন্য যেতে পারবে না। এতে ইতিকাফ ভেঙে যাবে।
তবে যদি তার জন্য বাইরে থেকে খাবার এনে দেওয়ার মতো কেউ না থাকে, তাহলে সে খাবার আনতে বাইরে যেতে পারে। খাবার নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে আবার ইতিকাফের জায়গায় ফিরে আসবে, বাইরে অবস্থান করবে না; অন্যথায় ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।
অবশ্য নারী তার ইতিকাফের নির্ধারিত স্থানের ভেতরে থেকেই ঘরের কাজ (যেমন আটা মাখা, রান্না করা, কাপড় ধোয়া ইত্যাদি) করতে পারে। তবে উত্তম হল—ইতিকাফে বসার আগে এসব কাজের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে নেওয়া, যাতে ইতিকাফের সময় একাগ্রতার সঙ্গে ইবাদত করতে পারে।
(ফাতওয়ায়ে বানুরী টাউন, ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/২১১)।
এনটি