ইতিকাফের সময় মসজিদের ছাদে যাওয়া যাবে?

রমজানের শেষ দশকের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ইতিকাফ মসজিদে পালন করার নিয়ম। পুরুষদের মসজিদে ইতিকাফ করা আবশ্যক। রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফের বিধান হলো সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। অর্থাৎ, এলাকাবাসীর কোনো একজন আদায় করে নিলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। আর কেউ আদায় না করলে সবাই গুনাহগার হবে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘মনে কর সেই সময়কে, যখন আমি কাবা ঘরকে মানুষের মিলনক্ষেত্র ও আশ্রয়স্থল করেছিলাম। আর আমি বলেছিলাম, তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকেই নামাজের জায়গা হিসেবে গ্রহণ কর। আর আমি ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করি; তোমরা আমার ঘরকে পবিত্র রাখবে, তাদের জন্য যারা এটা প্রদক্ষিণ করবে, এখানে বসে ইতিকাফ করবে এবং এখানে রুকু ও সিজদা করবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১২৫)।
মহানবী (সা.) অনেক নফল ইবাদত করতেন আবার কখনো ছেড়ে দিতেন; কিন্তু মদিনায় হিজরতের পর জীবদ্দশায় রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ কখনো ছাড়েননি।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের শেষ দশদিন ইতিকাফ করবে, তাকে দুটি হজ ও দুটি ওমরা পালন করার সওয়াব দান করা হবে। (শুয়াবুল ঈমান, হাদিস : ৩৬৮০)
ইতিকাফের সময় সার্বক্ষণিক মসজিদে অবস্থান করতে হয়। পুরোটা সময় ইবাদত-বন্দেগীতে কাটাতে হয়। অনর্থক কথাবার্তা থেকেও বিরত থাকা জরুরি। ইবাদতের ফাঁকে সীমানার মধ্যে চাইলে হাঁটাচলা করতে পারবেন ইতিকাফকারী এবং মসজিদের ছাদেও যেতে পারবেন। তবে ইতিকাফকারীর জন্য মসজিদের ছাদে যাওয়ার জন্য শর্ত হলো ছাদে যাওয়ার সিড়ি মসজিদের ভেতরেই হতে হবে, মসজিদের বাইরে হওয়া যাবে না।
যদি ছাদে যাবার সিড়ি মসজিদের বাইরে হয়, তাহলে ইতিকাফকারী ছাদে যেতে পারবে না। বাইরের সিড়ি দিয়ে মসজিদের ছাদে উঠলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে।
এনটি