ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য কী?

ইতিকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। বছরের যেকোনো সময় ইতিকাফ পালন করা যায়, তবে রমজানের শেষ দশ দিনে এর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রতি বছর রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে ইতিকাফ করতেন। ওফাতের বছর তিনি টানা ২০ দিন ইতিকাফ করেছিলেন। নবীজির এই মহান উত্তরাধিকারকে বাঁচিয়ে রাখতে তার পবিত্র সহধর্মিণীগণও পরবর্তী সময়ে ইতিকাফ পালন করেছেন।
বিজ্ঞাপন
আলেমদের মতে, যদি কারও পক্ষে শেষ দশ দিন পুরোটা সময় ইতিকাফ করা সম্ভব না হয়, তবে সাধ্যমতো অন্তত কয়েক দিন এই ইবাদতে কাটানো উচিত।
ইতিকাফের মূল লক্ষ্য কী?
ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো পার্থিব সব ব্যস্ততা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে পুরোপুরি স্রষ্টার সন্তুষ্টিতে নিমগ্ন হওয়া। আমরা যখন বাইরের জগতে থাকি, তখন বিভিন্ন ধরনের জাগতিক বিষয় আমাদের মনকে বিক্ষিপ্ত করে তোলে। ইতিকাফ সেই মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি দিয়ে অন্তরকে প্রশান্ত করে।
বিজ্ঞাপন
ইতিকাফের সময় একজন মুমিন সার্বক্ষণিকভাবে আল্লাহর জিকির, তাসবিহ পাঠ এবং আত্মউপলব্ধিতে মগ্ন থাকেন। এই আধ্যাত্মিক সাধনা একজন মানুষের হৃদয়ে ঈমানি শক্তিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আধ্যাত্মিকতার পরশ
বিজ্ঞাপন
ইতিকাফ শুধু মসজিদে বসে থাকা নয়, বরং আত্মিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়ার একটি প্রক্রিয়া। ইতিকাফ সেই সুযোগটিই করে দেয়। পবিত্র এই রমজানে নবীজির এই মহান সুন্নতকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে উম্মাহর মধ্যে শান্তি ও আধ্যাত্মিক জাগরণ আসুক।
এনটি