মসজিদুল হারামে খতম তারাবিতে মুসল্লিদের ঢল

সৌদি আরবে রমজানের ২৯তম দিন আজ। রমজান মাসের ২৯তম রজনীতে খতম তারাবি অনুষ্ঠিত হয়েছে মক্কার মসজিদুল হারামে। এই উপলক্ষে পবিত্র এই মসজিদে নেমেছিল মুসল্লি ও ওমরাহ পালনকারীদের ঢল। ইশা ও তারাবির নামাজ শেষে কোরআন খতমের বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিতে এক আবেগঘন ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে সমবেত হন লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
বিজ্ঞাপন
দিনের শুরু থেকেই মসজিদুল হারামের চত্বর, করিডোর, মাতাফ এলাকা এবং আশপাশের রাস্তাগুলোতে মুসল্লিদের ভিড় বাড়তে থাকে। সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও ব্যাপক সেবামূলক ব্যবস্থার কল্যাণে বিশাল এই জনসমাগমের মধ্যেও ওমরাহ ও নামাজ আদায়ের প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ।
দুই পবিত্র মসজিদের পরিচালনা পর্ষদ (জেনারেল অথরিটি ফর দ্য কেয়ার অফ দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য গ্র্যান্ড মস্ক অ্যান্ড দ্য প্রফেট'স মস্ক) অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের পূর্ণ জনবল ও সক্ষমতা নিয়ে মাঠে ছিল। ভিড় সামলানো, মুসল্লিদের দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং নামাজের স্থানগুলোতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতে কাজ করেছে বিশেষ টিম। বিশেষত বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য নেওয়া হয়েছিল বাড়তি সতর্কতা।
বিজ্ঞাপন
মসজিদ চত্বরে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুমুক্তকরণ এবং সুগন্ধি ছিটানোর কাজ চালানো হয়েছে কয়েক গুণ বেশি। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা জমজম পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্ধারিত স্থানগুলোতে পানির ড্রাম ও বোতলের ব্যবস্থা ছিল পর্যাপ্ত।
মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো সুনির্দিষ্ট গেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বৃদ্ধ ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ এবং তানকল অ্যাপের মাধ্যমে ইলেকট্রিক ও ম্যানুয়াল কার্ট বা হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা ছিল। ডিজিটাল স্ক্রিনে বিভিন্ন ভাষায় নির্দেশনার পাশাপাশি ফিল্ড রেসপন্স টিমগুলো যেকোনো প্রয়োজনে পর্যটকদের তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেছে।
মসজিদের শব্দ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, এসির শীতলীকরণ, ভেন্টিলেশন এবং আলোর ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সচল রাখা হয়েছিল। এছাড়া এসকেলেটর, লিফট ও জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
সূত্র : সৌদি গেজেট
এনটি