পবিত্র কোরআনের ছোট সুরাগুলোর একটি সুরা ফাতিহা। প্রত্যেক নামাজের শুরুতে এই দোয়া পড়তে হয়। এই সুরায় আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করা হয়েছে এবং তার কাছে হেদায়েত ও সঠিকপথে চলার প্রার্থনা করা হয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে সংক্ষিপ্ত আকারে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো উঠে এসেছে এই সুরায়। এর বিষয়বস্তু এবং পবিত্র কোরআনে এর অবস্থানের কারণেই এর নামকরণ করা হয়েছে আল-ফাতিহা বা সূচনা।
বিজ্ঞাপন
সুরাটির শুরু হয়েছে মহান আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে, যেখানে বলা হয়েছে—আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন (সব প্রশংসা আল্লাহর) এবং আর-রাহমানির রাহিম (যিনি পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু)। এরপর আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনা করে বলা হয়েছে—মালিকি ইয়াউমিদ্দিন (যিনি বিচার দিবসের মালিক)। সুরার শেষ অংশে রয়েছে দোয়া বা প্রার্থনা করা হয়েছে, যেমন একজন মানুষ তার স্রষ্টার কাছে সফলতা ও পথ প্রদর্শনের জন্য কামনা করে।
এই সুরাটি মূলত আল্লাহ এবং তার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে বিভক্ত।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ বলেন, আমি নামাজকে (সুরা ফাতিহা) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি এবং আমার বান্দা যা চাইবে, তা-ই তাকে দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
এই সুরার প্রতিটি আয়াতের রয়েছে গভীর অর্থ। একদিকে আল্লাহ নিজেকে বিশ্বজগতের প্রতিপালক ও দয়ালু হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, অন্যদিকে আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন বিচার দিবসের কথা।
সুরা ফাতিহার গুরুত্ব
ইসলামে সুরা ফাতিহার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি পবিত্র কোরআনের প্রথম সুরা এবং একে উম্মুল কিতাব, উম্মুল কোরআন ও আল-আসাস বা ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সুরা ফাতিহা ছাড়া কোনো নামাজই পূর্ণাঙ্গ হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সুরা সম্পর্কে বলেছেন, এটাই “সাবউল মাসানী” বা সাতটি আয়াত যা বার বার পড়া হয়, এবং কোরআনে কারীম যা আমাকে দেয়া হয়েছে।
আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের কথা
আল্লাহ তার দয়া ও করুণার গুণাবলি এখানে তুলে ধরেছেন। হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহ মানুষকে তার মায়ের চেয়েও বহুগুণ বেশি ভালোবাসেন। জীবনে আপনি যত গুনাহই করেন না কেন, ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তা ক্ষমা করে দেন।
আর-রাহমান শব্দের অর্থ হলো—তিনি দুনিয়াতে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সব মানুষের প্রতি দয়ালু এবং সবার প্রয়োজন পূরণ করেন।
আর আর-রাহিম শব্দটি মূলত মুমিনদের জন্য ব্যবহৃত, যার অর্থ হলো—পরকালে আল্লাহ কেবল বিশ্বাসীদের প্রতিই বিশেষভাবে দয়ালু হবেন।
বিচার দিবসের মালিক
পবিত্র কোরআন এই আয়াত অত্যন্ত স্পষ্ট। এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ শুধু রাজা বা প্রতিপালকই নন, বরং শেষ বিচার দিবসেরও একমাত্র অধিপতি। সেদিন তিনি হবেন রাজাধিরাজ এবং প্রত্যেকের কাজের সঠিক হিসাব নেবেন। সেদিন মহান আল্লাহর কাছে সবাই জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।
আল্লাহ তার বিচারকার্যে পরম ন্যায়বিচারক। যারা আল্লাহর স্মরণে সময় কাটিয়েছে এবং সঠিক পথে অবিচল ছিল, তারা পুরস্কার হিসেবে জান্নাত লাভ করবে। অন্যদিকে যারা আল্লাহর বাণী অস্বীকার ও অবজ্ঞা করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
দুনিয়াতে আমরা অনেক কিছুর মালিকানা দাবি করি, কিন্তু বিচার দিবসে কারও কোনো ক্ষমতা থাকবে না। সেদিন একমাত্র আল্লাহই চূড়ান্ত বিচার করবেন।
সুরার শেষ অংশে রয়েছে একটি চমৎকার প্রার্থনা। যেখানে মানুষকে আল্লাহর কাছে সরল পথের দিশা চাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এমন ব্যক্তিদের পথে চলার তাওফিক চাইতে বলা হয়েছে যারা সফল হয়েছে, অর্থাৎ নবী-রাসুল এবং তাদের সাহাবীগণ, যারা আল্লাহর পথে অবিচল ছিলেন।
সব মিলিয়ে সুরা আল-ফাতিহা হলো একজন মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ দোয়া। এটি আমাদের শেখায় কীভাবে আল্লাহর প্রশংসা করতে হয় এবং কীভাবে তার কাছে সঠিক পথের দিশা চাইতে হয়।
এনটি
