সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা একজন মুসলিমের অন্যতম দায়িত্ব। নামাজ না পড়ার শাস্তি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন জাহান্নামীদের জিজ্ঞাসা করা হবে— ‘কেন তোমরা সাকার নামক জাহান্নামে এলে? তারা বলবে, আমরা তো নামাজি ছিলাম না এবং আমরা মিসকিনদের খাবার দিতাম না; বরং আমরা সমালোচনাকারীদের সঙ্গে সমালোচনায় নিমগ্ন থাকতাম। এমনকি আমরা প্রতিদান দিবসকে (কেয়ামত) অস্বীকার করতাম। আর এভাবেই হঠাৎ আমাদের মৃত্যু এসে গেল।’ (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত : ৩৮-৪৭)
বিজ্ঞাপন
সময়মতো নামাজ আদায়ের বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নামাজ মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১০৩)
সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি আছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তার বান্দাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে পালন করবে, আর অবহেলার কারণে এর কোনোটি পরিত্যাগ করবে না, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অঙ্গীকার করেছেন। আর যে ব্যক্তি তা (যথাযথভাবে) আদায় করবে না, তার জন্য আল্লাহর কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দেবেন কিংবা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৪২০)
সময়মতো নামাজ আদায় করলে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করেন বলে জানিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। বর্ণিত হয়েছে, ‘মহান আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে নির্ধারিত সময়ে পূর্ণরূপে রুকু ও পরিপূর্ণ মনোযোগ সহকারে নামাজ আদায় করবে, তাকে ক্ষমা করার জন্য আল্লাহ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে না, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করবেন, অন্যথায় শাস্তি দেবেন।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪২৫)
বিজ্ঞাপন
এছাড়াও সময়মতো নামাজ আদায়কে সর্বোত্তম আমল বলে অভিহিত করা হয়েছে। হজরত উম্মু ফারওয়া (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহকে (সা.) সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, নামাজের সময় ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ আদায় করা। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪২৬)
কোরআন ও হাদিসের আলোকে সময়মতো এবং প্রথম ওয়াক্তে নামাজ আদায়ের কথা বলা হয়েছে। প্রথম ওয়াক্তে নামাজ আদায় করতে না পারলে যেকোনো সময় নামাজ পড়ে নিতে হবে। সময়ের মধ্যে নামাজ পড়তে না পারলে কাজা করে নিতে হবে। কাজা নামাজ যেকোনো সময় পড়া যায়। তবে প্রতিদিন তিনটি সময় আছে যখন নামাজ পড়া মাকরুহ। এই সময়গুলো হলো—
বিজ্ঞাপন
নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী সূর্যোদয় ও তার পরের ১০ মিনিট, দ্বিপ্রহর ও তার আগে-পরে ছয় মিনিট এবং সূর্যাস্ত ও তার আগের ১০ মিনিট মাকরুহ ওয়াক্ত বলে গণ্য হবে। এ সময়গুলোতে নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
তবে ওই দিনের আসরের নামাজ মাকরুহ সময়ের আগে পড়তে না পারলে ওই সময়ে তা আদায় করে নিলে আদায় হয়ে যাবে। (ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৩/১৭১)
এনটি
