দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে শুরু হবে ২০২৬ সালের হজ। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দিতে বর্তমানে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলিম । তবে এবারের হজে সৌদি আরবে প্রবেশের ক্ষেত্রে টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘নুসুক হজ’-এর গাইডলাইন অনুযায়ী, সৌদি আরবে পৌঁছানোর অন্তত ১০ দিন আগে নির্দিষ্ট কিছু টিকা নেওয়া এখন বাধ্যতামূলক।
বিজ্ঞাপন
যেসব টিকা বাধ্যতামূলক
সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এক বছর বা তার বেশি বয়সী সকল হজযাত্রীর জন্য নিচের টিকাগুলো গ্রহণ করা আবশ্যক:
- ১. মেনিনজাইটিস: হজে অংশগ্রহণকারী বা হজ সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রবেশকারী প্রত্যেকের জন্য কোয়াড্রপল মেনিনজাইটিস টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। যাত্রার অন্তত ১০ দিন আগে এই টিকা নিতে হবে। পলিস্যাকারাইড টিকার মেয়াদ থাকবে তিন বছর এবং কনজুগেট টিকার মেয়াদ থাকবে পাঁচ বছর।
- ২. পোলিও: যেসব দেশে পোলিও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রয়েছে, সেসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের পোলিও টিকা দেওয়ার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। যাত্রার চার সপ্তাহ থেকে ১২ মাস আগে এই ডোজ গ্রহণ করতে হবে।
- ৩. পীতজ্বর (ইয়েলো ফিভার): পীতজ্বর আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আসা ৯ মাসের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই টিকা এবং এর আন্তর্জাতিক সনদ থাকা বাধ্যতামূলক। এই টিকা গ্রহণের ১০ দিন পর থেকে এটি কার্যকর হিসেবে গণ্য হয়।
বিজ্ঞাপন
পরামর্শমূলক স্বাস্থ্য নির্দেশনা
বাধ্যতামূলক টিকার পাশাপাশি হজযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য আরও কিছু টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ ফ্লুর টিকা। বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য নিউমোকোকাল ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি। এছাড়া সাধারণ স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
টিকা কখন নেবেন?
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে সময় লাগে, তাই সৌদি আরবে পৌঁছানোর কমপক্ষে ১০ দিন আগেই সব প্রয়োজনীয় টিকা শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব টিকার তথ্য অবশ্যই অনুমোদিত স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক টিকাদান কার্ডে লিপিবদ্ধ থাকতে হবে।
বয়স্ক ও দীর্ঘস্থায়ী রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
যারা হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, লিভার বা কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছেন অথবা ক্যানসারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে হজ সফরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করে হজের পরিকল্পনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সূত্র : গালফ নিউজ
এনটি
