বিজ্ঞাপন

আল্লাহর ওপর নবী মুসার (আ.) মায়ের অবিচল আস্থা আমাদের যে শিক্ষা দেয়

আল্লাহর ওপর নবী মুসার (আ.) মায়ের অবিচল আস্থা আমাদের যে শিক্ষা দেয়

তিনি ছিলেন একজন মা। আর দশজন মায়ের মতোই নিজের সন্তান ছিল তার নয়নের মণি। কিন্তু তার কোলজুড়ে আসা সেই শিশুটি এমন এক সময়ে পৃথিবীতে এসেছিল, যখন নবজাতক পুত্রসন্তানদের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

সেই শিশুটি ছিলেন হজরত মুসা (আ.)। তার মাকে মুখোমুখি হতে হয়েছিল তৎকালীন প্রবল প্রতাপশালী অত্যাচারী শাসক ফেরাউনের নিষ্ঠুর আদেশের। সিংহাসন হারানোর ভয়ে ফেরাউন বনী ইসরায়েলের প্রতিটি নবজাতক পুত্রসন্তানকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল।

মুসা (আ.)-এর জন্মের পর তার মা সন্তানের জীবন নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন। বাঁচার কোনো পথই যখন খোলা ছিল না, ঠিক তখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে এলো এক অলৌকিক সমাধান।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি মুসার জননীকে প্রত্যাদেশ করলাম যে, তুমি তাকে স্তন্যদান করো। যখন তুমি তার জীবনের ব্যাপারে আশঙ্কা করবে, তখন তাকে নদীতে ভাসিয়ে দিও। ভয় পেয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না; আমি অবশ্যই তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসুলদের অন্তর্ভুক্ত করব। (সুরা কাসাস, আয়াত : ৭)

একবার ভাবুন তো, একজন নবজাতকের মায়ের জন্য নিজের বুকের মানিককে উত্তাল নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া কতটা কঠিন! কিন্তু সেই ভয়ের বিপরীতে তার কাছে ছিল মহামূল্যবান আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ তাকে অভয় দিয়েছিলেন যে, মুসাকে শুধু ফিরিয়েই দেওয়া হবে না, বরং তাকে নবুয়তের মহান দায়িত্বে ভূষিত করা হবে।

ফেরাউনের ঘরেই সুরক্ষা

আল্লাহর পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিশু মুসাকে নদীর কূল থেকে উদ্ধার করে ফেরাউনের পরিবার। কোরআনে এসেছে, ফেরাউনের লোকজন তাকে কুড়িয়ে নিল, যাতে শেষ পর্যন্ত সে তাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হয়। ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়া শিশুটিকে দেখে মুগ্ধ হন এবং তাকে হত্যা না করে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব দেন। তিনি জানতেন না, এই শিশুই একদিন ফেরাউনের সাম্রাজ্যের পতনের কারণ হবে।

আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা

এক প্রতিকূল সময়ে আল্লাহ একজন নারীকে তার ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে বলেছিলেন। বিনিময়ে দিয়েছিলেন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। আল্লাহ তার সেই ওয়াদা রক্ষা করেছিলেন। এমনকি তার কুদরতের নিদর্শন হিসেবে মুসাকে রক্ষার ব্যবস্থা করলেন খোদ তার প্রধান শত্রুর প্রাসাদে।

আল্লাহ বলেন, আমি মুসার ওপর আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা ঢেলে দিয়েছিলাম, যাতে সে আমার চোখের সামনে বড় হয়। (সুরা তোয়াহা, আয়াত : ৩৯)

গল্পের মূল শিক্ষা

এই ঘটনা থেকে মানবজাতির জন্য বড় শিক্ষা হলো আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা নির্ভরতা। যদি মুসা (আ.)-এর মা আল্লাহর নির্দেশের বাইরে নিজের বুদ্ধিতে সন্তানকে ঘরে লুকিয়ে রাখতেন, তবে হয়তো তাকে প্রাণ হারাতে হতো। কিন্তু আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাকে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার ফলেই তিনি রক্ষা পান।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, এভাবেই আমি তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুঃখ না পায়। আর সে যেন বুঝতে পারে যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য। (সুরা কাসাস, আয়াত : ১৩)

মুসা (আ.)-এর মায়ের এই গল্প আমাদের শেখায় যে, পরিস্থিতি যতটাই অসম্ভব মনে হোক না কেন, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সবসময় সত্য। একমাত্র তার ওপর অবিচল আস্থা রাখলেই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও পরম নিরাপত্তা পাওয়া সম্ভব।

এনটি