হজ বা ওমরাহ পালনের পর মাথা মুণ্ডন করা বা চুল ছোট করা একটি অপরিহার্য বিধান। তবে অনেকেই সংশয়ে থাকেন যে, এই কাজটি নিজের হাতে নিজে করা যাবে কি না, নাকি অন্য কাউকে দিয়ে করাতে হবে। ভারতের বিখ্যাত ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগে এমন একটি প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, এক ব্যক্তি হজে গিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও তথ্যের অভাবে কিছুটা দোটানায় ছিলেন। তিনি প্রথমবার মক্কায় পৌঁছে ওমরাহর পর সেলুনে গিয়ে চুল কাটলেও পরবর্তী ওমরাহ ও হজের সময় নিজের এবং তার সন্তানদের চুল নিজেই কেটে দেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে, নিজের চুল নিজে কাটা বৈধ নয়। এর ফলে ওই ব্যক্তির মনে দুশ্চিন্তা তৈরি হয় যে, তার হজ কবুল হলো কি না কিংবা এর জন্য কোনো দণ্ড বা দম দিতে হবে কি না।
প্রশ্নের জবাবে দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, হজ বা ওমরাহর আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইহরাম খোলার সময় নিজের চুল নিজে মুণ্ডন করা বা ছোট করা সম্পূর্ণ বৈধ। এমনকি নিজের হাতে পরিবারের সদস্যদের চুল কেটে দেওয়াও শরীয়তসম্মতভাবে জায়েজ।
স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, হজের নির্ধারিত কাজ শেষে যখন মাথা কামানোর সময় আসে, তখন হাজি নিজের চুল নিজে কাটলে কোনো মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ হবে না। এর জন্য কোনো ধরনের কাফফারা বা জরিমানা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যারা দাবি করেন যে এটি করা যাবে না, তাদের বক্তব্যের কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই।
ওই ব্যক্তির হজ ও ওমরাহর আমলটি সঠিক ছিল এবং তিনি কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেননি। তাই কোনো ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই তাকে ইবাদতে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় সাধারণ হাজিরা এমন ভ্রান্ত ধারণার শিকার হন, যা দূর করতেই এই ফতোয়া জারি করা হয়।
এনটি
