হজ ও ওমরার গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান ফরজ হলো ইহরাম। ইহরাম পরিধান করে হজ-ওমরাযাত্রীদের মিকাত পার হতে হয়। ইহরাম শব্দের আভিধানিক অর্থ নিষিদ্ধ করা। হজ ও ওমরাহ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি যখন হজ বা ওমরাহ কিংবা উভয়টি পালনের উদ্দেশ্যে নিয়ত করে তালবিয়া পাঠ করে, তখন তার ওপর কতিপয় হালাল ও জায়েয বস্তুও হারাম হয়ে যায়।
অর্থাৎ, হজ-ওমরাহ পালনকারী ব্যক্তি ইহরামের মাধ্যমে নিজের ওপর স্ত্রী সহবাস, মাথার চুল, হাতের নখ, গোঁফ, বগল ও নাভির নিচের ক্ষৌর কার্যাদি, সুগন্ধি ব্যবহার, সেলাই করা পোশাক পরিধান এবং শিকার করাসহ কিছু বিষয়কে হারাম করে নেয়। এ কারণেই এ প্রক্রিয়াটিকে ইহরাম বলা হয়।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী ইহরাম বাঁধার পর কোনো কারণে যদি কেউ ওমরাহ সম্পন্ন করতে না পারে এবং তা খুলে ফেলেন, তবে তার ওপর একটি ‘দম’ বা কোরবানি ওয়াজিব এবং পরবর্তীতে ওই ওমরাহ কাজা করে নিতে হবে।
সম্প্রতি ভারতের বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগে এক ব্যক্তির করা প্রশ্নের উত্তরে এই সমাধান দেওয়া হয়েছে।
ইহরাম বাঁধার পর ওমরাহ না করে ফিরে এলে করণীয়
সৌদি আরবের জুবাইল শহর থেকে এক ব্যক্তি ওমরাহ করার উদ্দেশ্যে মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধেন। কিন্তু মক্কায় প্রবেশের পথে চেকপোস্টে তাকে থামিয়ে দেওয়া হয় এবং জানানো হয় যে, বর্তমানে ওমরাহ বন্ধ। বাধ্য হয়ে তিনি মিকাতে ফিরে ইহরাম খুলে ফেলেন। এমতাবস্থায় তার করণীয় কী এবং সামনে হজে যাওয়ার আগে এই দমের বিধান কীভাবে পালন করবেন, তা জানতে চান তিনি।
দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বিভাগ জানিয়েছে, ইহরাম বাঁধার পর ওমরাহ না করে তা খুলে ফেলায় ওই ব্যক্তির ওপর একটি দম বা পশু কোরবানি করা ওয়াজিব হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে এই ওমরাহ পরবর্তীতে কাজা করতে হবে।
দম আদায়ের পদ্ধতি
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, দমের পশু অবশ্যই মক্কার হারাম শরিফের সীমানার মধ্যে জবাই করতে হবে। যেহেতু প্রশ্নকারী বর্তমানে মক্কায় প্রবেশ করতে পারছেন না, তাই তিনি কয়েকটি উপায়ে এটি আদায় করতে পারেন:
১. মক্কায় পরিচিত কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তি থাকলে তাকে একটি বকরি বা দুম্বার সমপরিমাণ টাকা পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তিনি ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে হারাম এলাকায় পশু জবাই করে দেবেন।
২. পরবর্তীতে যখন তিনি হজে বা ওমরাহ কাজা করতে মক্কায় যাবেন, তখন নিজে উপস্থিত থেকেও পশু জবাই করতে পারেন।
৩. বর্তমানে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমেও মক্কায় পশুর টাকা পাঠিয়ে দম আদায়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব।
ওমরাহ অসমাপ্ত রেখে ইহরাম খোলার কারণে এটি তার জিম্মায় ঋণ হিসেবে থেকে যাবে। তাই সুযোগ পাওয়ামাত্রই তা আদায় করে নেওয়া উত্তম।
এনটি
