পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে গমন করেন। তাদের অনেকেই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর ২০ থেকে ২৫ দিন আগেই মক্কায় পৌঁছে যান। এই হজযাত্রীদের অধিকাংশই তামাত্তু হজ পালনের নিয়ত করেন, তারা প্রাথমিক ওমরাহ সম্পন্ন করার পর হাতে বেশ কিছুটা সময় পান। এই সময়ে অতিরিক্ত ওমরাহ করা যাবে কি না এবং ওমরাহ নাকি তাওয়াফ কোনটি বেশি ফজিলতপূর্ণ, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে।
আলেমদের মতে, হজের আগে ওমরাহ সম্পন্ন করার পর একজন হজযাত্রী চাইলে একাধিক ওমরাহ পালন করতে পারেন। এতে ধর্মীয় কোনো বিধি-নিষেধ বা মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হওয়ার কারণ নেই।
তবে অতিরিক্ত ওমরাহ নাকি বেশি বেশি তাওয়াফ— এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি বেশি উত্তম, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন আলেমরা। তারা জানিয়েছেন, মক্কায় অবস্থানকালীন একজন হজযাত্রী বা বিদেশির জন্য ওমরাহ করার চেয়ে বেশি বেশি নফল তাওয়াফ করা সাধারণভাবে অধিকতর ফজিলতপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাওয়াফ হলো বাইতুল্লাহকে ঘিরে বিশেষ ইবাদত যা অন্য কোথাও সম্ভব নয়। তবে এখানে একটি সূক্ষ্ম হিসাব রয়েছে। একটি ওমরাহ সম্পন্ন করতে সাধারণত যতটুকু সময় ও শ্রম ব্যয় হয়, কেউ যদি সেই সমপরিমাণ সময় তাওয়াফে ব্যয় করেন, তবেই তা ওমরাহ করার চেয়ে উত্তম বলে গণ্য হবে। যদি ওমরাহ করার পরিবর্তে কেউ অলসভাবে বসে থাকেন বা মাত্র একটি-দুটি তাওয়াফ করে মনে করেন যে ওমরাহর চেয়ে বেশি সওয়াব হয়েছে, তবে তা সঠিক হবে না।
অর্থাৎ, সময়ের সঠিক ব্যবহার ও ইবাদতের একাগ্রতার ওপর ভিত্তি করেই এই শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয়। তাই হজযাত্রীদের জন্য পরামর্শ হলো, মক্কায় অবস্থানের দিনগুলোতে সময়ের অপচয় না করে যতটুকু সম্ভব বেশি বেশি তাওয়াফে মশগুল থাকা। তবে কেউ যদি শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ওমরাহ করতে চান, তাতেও কোনো বাধা নেই। সূত্র : ফতোয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ।
এনটি
