কোনো ব্যক্তির কাছে মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি স্বণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা থাকলে তার জন্য বছর শেষে যাকাত আদায় করা ফরজ। তবে কোনো ব্যক্তির কাছে যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনেক বেশি কাপড় থাকে তাহলে তার জন্য যাকাত আদায় করা ফরজ হবে কিনা?
যেমন, এ বিষয়ে জানতে চেয়ে একজন প্রশ্ন করেছেন—
‘আমার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। তিনি বছরের বিভিন্ন সময়ে এবং প্রতি ঈদে আমাকে দামী দামী অনেক কাপড়-চোপড় কিনে দেন। তাছাড়া অনেকে থ্রীপীছ, শাড়ি ইত্যাদি গিফট করেন। তাই কাপড়ের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এখন দুই আলমারিতেও জায়গা হয় না। অথচ এতোগুলো কাপড়ের মাঝে মাত্র কয়েক সেট নিয়মিত ব্যবহার হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এই কাপড়গুলোর উপর যাকাত আসবে কি?
এ বিষয়ে ফেকাহবিদদের মতামত হলো, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওই কপড়গুলোর যাকাত দিতে হবে না। কেননা তা ব্যবহারের কাপড়। ব্যবহারের কাপড়-চোপড় প্রয়োজনের অতিরিক্ত ও মূল্যবান হলেও তার উপর যাকাত আসে না। কিন্তু স্বর্ণ, রূপার অলংকার ব্যবহারের জন্য হলেও তার যাকাত দিতে হয়।
তবে ওই কাপড়গুলোর উপর যাকাত না আসলেও তা থেকে নফল সদকা করা যায়। হাদীস শরীফে ব্যবহৃত কাপড় সদকা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে এবং এ ধরনের কাপড় সদকা করার ফজিলতও অনেক।
উমর রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি নতুন কাপড় পরিধান করে এই দোয়া পড়বে
আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি কাসানি মা উয়ারি বিহি আওরাতি ওয়া আতাজাম্মালু বিহি ফি হায়াতি।
তারপর পুরাতন কাপড় সদকা করে দিবে সে আল্লাহ তায়ালার হেফাজত ও নিরাপত্তায় থাকবে এবং জীবনে ও মরণে আল্লাহ তায়ালার পথে থাকবে। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৬০)
এনটি
