সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক লিটল ইন্ডিয়া এলাকার ব্যস্ত দোকানপাটের মাঝে লুকিয়ে আছে ইতিহাস আর ঐতিহ্যে ঘেরা এক চমৎকার মসজিদ। নাম আব্দুল গাফুর মসজিদ। তবে এই মসজিদের সবচেয়ে বড় রহস্য এর মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক গোপন কক্ষ বা বেসমেন্ট, যা দীর্ঘকাল মানুষের চোখের আড়ালে ছিল।
অতীতে এই মসজিদটি মূলত তামিল ও বাউইয়ানস অভিবাসী মুসলিমদের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র ছিল। শুরুর দিকে এর নাম মসজিদ আল-আবরার থাকলেও পরবর্তীতে এর অন্যতম ট্রাস্টি শেখ আব্দুল গাফুর বিন শেখ হায়দারের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে তার নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। ১৯০৭ সালে নির্মিত এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি সিঙ্গাপুরের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত, যা যুগের পর যুগ ধরে স্থানীয় মুসলিমদের সেবা দিয়ে আসছে।
মসজিদটির সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায় উন্মোচিত হয় ১৯৯৮ সালে। তৎকালীন কর্তৃপক্ষ যখন মসজিদটির সংস্কার কাজ শুরু করে, তখন এর মূল নকশা বা বিল্ডিং প্ল্যানটি খুঁজে পাওয়া যায়। আর তখনই সন্ধান মেলে দীর্ঘদিন ধরে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া এক বিশাল ভূগর্ভস্থ কক্ষের। এর আগে সবাই এটিকে শুধু মাটির ঢিবি মনে করত।
এই বেসমেন্টটি কীভাবে বা কেন মাটির নিচে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল, তা আজও এক রহস্য। তবে এই নতুন জায়গা আবিষ্কারের ফলে মসজিদে এখন অতিরিক্ত ৬০০ জন মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন। ১৯৭৯ সালে সিঙ্গাপুর সরকার এই ঐতিহাসিক মসজিদটিকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করে।
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে আব্দুল গাফুর মসজিদটি ইসলামী ও পশ্চিমা সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিশ্রণ। এর প্রধান নামাজ ঘরের বারান্দায় রয়েছে খাঁজকাটা খিলান ও আকর্ষণীয় কারুকাজ, যা খাঁটি ইসলামী স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। আবার এর পাশাপাশি প্রাচীন গ্রীক স্থাপত্যশৈলী থেকে অনুপ্রাণিত পিলারের ব্যবহার পুরো নকশায় এনে দিয়েছে এক ভিন্নধর্মী মাত্রা।
বর্তমানে এই মসজিদে তামিল ও ইংরেজিভাষী মুসল্লিদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। সিঙ্গাপুরের যে কয়েকটি মসজিদে নিয়মিত তামিল ভাষায় ধর্মীয় বয়ান বা খুতবা দেওয়া হয়, এটি তার অন্যতম।
এনটি
