বিজ্ঞাপন

রমজানের পর যে রোজার ফজিলত সবচেয়ে বেশি

রমজানের পর যে রোজার ফজিলত সবচেয়ে বেশি

রমজানের পর আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে প্রিয় মাস মহররম মাস। মুহাররম মাসের সব থেকে মহিমান্বিত দিন  ‘ইয়াওমে আশুরা’ তথা মুহাররমের দশ তারিখ। হাদীসে আশুরার দিনের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। আশুরার দিনকে সাহাবিরা রোজা, তওবা,সদকা ও বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে উদযাপন করতেন।

আশুরার রোজা: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করলেন। মদিনার আহলে কিতাব ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখতো এবং দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপন করতো। রাসুল (সা.) তাদের কাছে এর কারণ জানতে চেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা এ দিনে রোজা রাখছো কেন? তারা বলল, এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ দিবস। আল্লাহ তায়ালা এ দিনে হজরত মূসা (আ.) ও তার কওমকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফেরাউনকে তার দলবলসহ দরিয়ায় নিমজ্জিত করেছেন। এরপর হজরত মূসা (আ.) এ দিনে শুকরিয়া আদায়ের জন্য রোজা রাখতেন। তাই আমরাও রোজা রাখি।

এ কথা শুনে রাসুল (সা.) বললেন, হজরত মূসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রেআমরা তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার। এরপর রাসুল (সা.) নিজেও রোজা রাখলেন এবং অন্যদের রোজা রাখতে বললেন। (সহিহ মুসলিম, হাদীস : ১১৩০)

হজরত আবু মূসা (রা.) থেকে বর্ণিত, আশুরার দিন এমন একটি দিন, যে দিনকে ইহুদীরা সম্মান করত এবং এ দিনকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করত। রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা এ দিনে রোজা রাখো। (সহিহ মুসলিম, হাদীস : ১১৩১)

ইসলাম পূর্ব যুগে আশুরা

উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বলেন, জাহেলী সমাজে লোকেরা রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে আশুরার দিন রোজা রাখত। এ দিন কাবায় গিলাফ জড়ানো হত। এরপর যখন রমজানের রোজা ফরজ হল তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, যে এ দিন রোজা রাখতে চায় সে রাখুক। যে না চায় না রাখুক। (সহিহ বুখারী, হাদীস : ১৫৯২)

এ হাদীস থেকে মুহাররমের ব্যাপারে দুটি কথা পাওয়া যায়:

  • ১. মুহাররম মাস আল্লাহর মাস। সম্মানিত ও মহিমান্বিত মাস।
  • ২. এর সম্মান রক্ষা এবং এ থেকে যথাযথ উপকৃত হওয়ার একটি মাধ্যম হচ্ছে, এ মাসে রোজা রাখার প্রতি যত্নবান হওয়া।

এ হাদীস থেকে বুঝে আসে রাসুল (সা.) ব্যক্তিগতভাবে হিজরতের আগে এ দিন রোজা রাখতেন। হিজরতের পরও এ দিন রোজা রাখতেন। রোজা রাখতে উদ্বুদ্ধ করতেন। রমজানের রোজা ফরয হওয়ার পূর্বে এ দিনের রোজা ফরজ ছিল। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর এ দিন রোজা রাখা এখন মুস্তাহাব।

আশুরার রোজা:  ফজিলত ও গুরুত্ব

আশুরার দিনের মূল ইবাদত হচ্ছে এ দিন রোজা রাখা। এ দিনের রোজার ফজিলতের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর নিকট প্রত্যাশা রাখি, তিনি পূর্বের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ মাফ করে দেবেন। (সহিহ মুসলিম, হাদীস : ১১৬২)

অপর এক হাদীসে জানা যায়, হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেন, রমজানের পর সব থেকে উত্তম রোজা হল আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সব থেকে উত্তম নামাজ হল রাতের নামাজ (অর্থাৎ তাহাজ্জুদের নামাজ)। (সহিহ মুসলিম, হাদীস: ১১৬৩)

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আশুরার দিনের চেয়ে গুরুত্ব দিয়ে অন্য কোনো দিন রোজা রাখতে দেখিনি এবং রমজান মাস অপেক্ষা অন্য কোনো মাসে এত গুরুত্ব দিয়ে রোজা রাখতে দেখিনি। (সহিহ বুখারী, হাদীস : ২০০৬; সহিহ মুসলিম, হাদীস : ১১৩২)

এনটি