বিজ্ঞাপন

সাহাবিরা যেভাবে আশুরার রোজা রাখতেন

সাহাবিরা যেভাবে আশুরার রোজা রাখতেন

রমজানের পর আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচেয়ে প্রিয় মাস মহররম মাস। মুহাররম মাসের সব থেকে মহিমান্বিত দিন  ‘ইয়াওমে আশুরা’ তথা মুহাররমের দশ তারিখ। হাদীসে আশুরার দিনের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। আশুরার দিনকে রোজা, তওবা,সদকা ও বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে উদযাপন করতেন সাহাবিরা।

সাহাবিরা এ দিনে শিশুদেরকেও রোজা রাখতে অভ্যস্ত করতেন। বিখ্যাত নারী সাহাবী হজরত রুবায়্যি‘ বিনতে মুআববিয (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরার দিন সকালে আনসারদের এলাকায় লোক মারফত এ খবর পাঠালেন—

যে আজ সকালে খেয়েছে সে যেন সারাদিন আর না খায়। আর যে সকালে খায়নি সে যেন রোজা পূর্ণ করে।

ওই নারী সাহাবী বলেন, এরপর থেকে আমরা নিজেরাও এ দিনে রোজা রাখতাম এবং আমাদের বাচ্চাদেরও রোজা রাখতে উৎসাহিত করতাম। তাদের জন্য আমরা খেলনা বানিয়ে রাখতাম। তারা খাবারের জন্য কান্নাকাটি করলে তাদেরকে খেলনা দিয়ে শান্ত করতাম। ইফতার পর্যন্ত এ নিয়ে তার সময় কেটে যেত। (সহিহ বুখারী, হাদীস : ১৯৬০; সহিহ মুসলিম, হাদীস : ১১৩৬)।

আশুরার রোজা যেভাবে রাখবো

আশুরার মূল রোজা ১০ মুহাররম। তবে আশুরার রোজা রাখার ক্ষেত্রে উত্তম হলো, ১০ মুহাররমের আগে বা পরে অর্থাৎ, ৯ বা ১১ তারিখে একদিন অতিরিক্ত রোজা রাখা। ৯ তারিখে রাখতে পারলে ভালো। কারণ হাদীসে নয় তারিখের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন আশুরার রোজা রাখছিলেন এবং অন্যদেরকে রোজা রাখতে বলেছিলেন তখন সাহাবীগণ বললেন—

ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ দিনকে তো ইহুদী-নাসারারা (খ্রিস্টানরা) সম্মান করে? তখন নবীজী বললেন—

তাহলে আগামী বছর আমরা ৯ তারিখেও রোজা রাখব, ইনশাআল্লাহ। কিন্তু সেই আগামী বছর আসার পূর্বেই নবীজীর (সা.) ইন্তেকাল হয়ে যায়। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৩৪)

‘৯ তারিখ রোজা রখব’ মানে ১০ তারিখের সাথে নয় তারিখ মিলিয়ে রাখব। এজন্য ইবনে আব্বাস (রা.) বলতেন, তোমরা ৯ তারিখ এবং ১০ তারিখ রোজা রাখো এবং ইহুদীদের বিরোধিতা কর। (জামে তিরমিজি, হাদীস: ৭৫৫)

আশুরার রোজা রাখার ক্ষেত্রে সবথেকে উত্তম হলো, ১০ তারিখের সঙ্গে আগে-পরে মিলিয়ে আরও দুটি রোজা রাখা। ৯, ১০ ও ১১ সর্বমোট তিনটি রোজা রাখা। কারণ, মুহাররম মাসব্যাপী রোজা রাখার কথা সহীহ হাদীসেই আছে। (ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার রাহ. ৪/২৪৬)

তবে আগে হোক অথবা পরে আশুরার দিনের রোজার সাথে একটি অতিরিক্ত রোজা রেখে অন্তত দুটি রোজা রাখা উত্তম। তবে শুধু আশুরার দিন রাখলেও সওয়াব ও ফজিলত পাওয়া যাবে।

এনটি