বিজ্ঞাপন

কেপ ভার্দের মুসলিমদের সামনে যত চ্যালেঞ্জ

কেপ ভার্দের মুসলিমদের সামনে যত চ্যালেঞ্জ

আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে মূলত খ্রিস্টানপ্রধান দেশ। দেশটিতে মুসলিমরা সংখ্যালঘু হলেও সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় মুসলিমরা। কেপ ভার্দের সংবিধানে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানে মুসলিমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

দেশটির মুসলিম নেতারা জানিয়েছেন, সেখানে নতুন মসজিদ গড়ে তোলার আইনি অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি কারাগারে বন্দি মুসলিমদের সঙ্গে দেখা করা এবং শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক এক বার্ষিক প্রতিবেদনে কেপ ভার্দেতে ইসলামের অবস্থান ও মুসলিমদের ওপর নানা বিধিনিষেধের এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সরকার আইনগতভাবে সব ধর্মের স্বাধীনতার কথা বললেও পরোক্ষভাবে শুধু ক্যাথলিক চার্চকেই সব ধরনের বিশেষ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে।

ক্যাথলিকদের একচ্ছত্র আধিপত্য, উপেক্ষিত সংখ্যালঘুরা

কেপ ভার্দে সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির মোট জনসংখ্যার ৭৭ শতাংশ রোমান ক্যাথলিক এবং ১০ শতাংশ প্রোটেস্ট্যান্ট। অন্যদিকে মুসলিমদের সংখ্যা মাত্র ২ শতাংশ। অবশিষ্ট জনসংখ্যার মধ্যে অন্যান্য খ্রিস্টান সম্প্রদায়সহ ছোট ছোট বাহাই ও ইহুদি জনগোষ্ঠী রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে ভ্যাটিকানের সঙ্গে কেপ ভার্দে সরকারের একটি বিশেষ চুক্তি হয়। এই চুক্তির আওতায় ক্যাথলিক চার্চকে এমন কিছু বিশেষ আইনি ও করমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের অন্য কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠী পায় না। এমনকি সরকারি কোনো ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও শুধু ক্যাথলিক প্রতিনিধিদেরই আমন্ত্রণ জানানো হয়।

অন্যান্য ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকারের এই পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে জনগণের মনে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে ক্যাথলিক ধর্মই বোধহয় দেশটির একমাত্র অফিশিয়াল বা রাষ্ট্রধর্ম।

মসজিদ ও কারাগার নিয়ে মুসলিমদের ক্ষোভ

দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা অভিযোগ করেছেন, অনেকে নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা নিজস্ব বাসভবনে মসজিদ গড়ে তুলতে চাইলেও সরকার সেগুলোর আইনি বৈধতা বা লাইসেন্স দিচ্ছে না। এছাড়া কারাগারে বন্দি মুসলিম কয়েদিদের ধর্মীয় অধিকারও ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। মুসলিম নেতারা জানান, প্রতি শুক্রবার বন্দিদের সঙ্গে দেখা করে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হলেও অনেক সময়ই সেই আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়।

অবশ্য এই প্রশাসনিক জটিলতা ও বৈষম্যের বাইরে সাধারণ জনগণের মাঝে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বা ধর্মীয় বিদ্বেষের খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষ সেখানে শান্তিপূর্ণভাবেই সহাবস্থান করছেন।

মার্কিন দূতাবাসের পদক্ষেপ

কেপ ভার্দের এই ধর্মীয় বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বিষয়টির সুরাহা করতে দেশটির সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিচার মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। একই সঙ্গে তারা মুসলিম কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন এবং কেপ ভার্দে সরকারকে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এনটি

বিজ্ঞাপন