বিজ্ঞাপন

টোকিওর অলিগলিতে ‘লুকিয়ে থাকা’ ৫ মসজিদ

টোকিওর অলিগলিতে ‘লুকিয়ে থাকা’ ৫ মসজিদ

কখনো না ঘুমানো শহর হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত জাপানের রাজধানী টোকিও। এই নিয়ন আলোর চকমকে শহরে প্রবাসী ও স্থানীয় মুসলিমদের জন্য একটু শান্তি, ইবাদত ও নিজেদের সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মেলবন্ধনের এক অনন্য আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে এখানকার কিছু মসজিদ।

টোকিওতে মুসলিমদের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও ইবাদত বন্দেগি ও পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের জন্য এই মসজিদগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। টোকিওর শিবুয়া এলাকায় অবস্থিত জাপানের সবচেয়ে বড় মসজিদ টোকিও ক্যামি বা টোকিও জামে মসজিদ। এর চমৎকার অটোমান বা তুর্কি স্থাপত্যশৈলী আধুনিক জাপানের বুকে এক টুকরো মুসলিম ঐতিহ্যের জানান দেয়। তবে বিশ্বের অন্যান্য বড় শহরের মতো টোকিওর মসজিদগুলো খুব সহজে চোখে পড়ে না। এখানকার বেশির ভাগ মসজিদই শহরের কোলাহল আর সুউচ্চ ভবনের আড়ালে চেনা চেনা অলিগলিতে লুকিয়ে রয়েছে। টোকিওর এমন ৫টি সুপরিচিত ও আড়ালে থাকা মসজিদের গল্প তুলে ধরা হলো এই ফিচারে।

১. মসজিদ নুসানতারা, আকিহাবারা

টোকিওর আকিহাবারা এলাকাটি মূলত গেম সেন্টার, অ্যানিমে-মাঙ্গা আর নিয়ন আলোর জন্য বিখ্যাত। এর খুব কাছেই একটি সাধারণ ভবনের পঞ্চম তলায় অবস্থিত এই মসজিদ। ইন্দোনেশিয়ান মুসলিমদের পরিচালিত এই মসজিদের ভেতরে আরবি ক্যালিগ্রাফির পাশাপাশি জাপানি ও ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় দিকনির্দেশনামূলক বিভিন্ন সাইনবোর্ড রয়েছে। জাপানের সুপরিচিত ইমাম শায়খ আহমদ মায়েনো এখানে নিয়মিত বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মসজিদের ঠিক উল্টো দিকেই রয়েছে একটি হালাল রেস্তোরাঁ, যেখানে হালাল রামেন, গিয়োজা ও জাপানি কারি পাওয়া যায়।

২. মসজিদ শিন-ওকুবো, শিন-ওকুবো

টোকিওর বিখ্যাত কোরিয়ান টাউনের একটি গলির ভেতরে এই মসজিদের অবস্থান। কোরিয়ান পপ সংগীতের সুরের মাঝেই হঠাৎ করে এই গলিতে ভেসে আসে আজানের সুমধুর ধ্বনি। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিদেশি বাসিন্দাদের নামাজের জন্য একটি দারুণ আশ্রয়স্থল। মসজিদটি যে গলিতে অবস্থিত তাকে ইসলাম ইয়োকোচো বা ইসলাম গলি বলা হয়। এই পুরো গলিতে বিভিন্ন হালাল রেস্তোরাঁ ও সুপারমার্কেট রয়েছে। বহুতল ভবনের মাত্র একটি কক্ষ নিয়ে এই মসজিদ গঠিত হলেও এখানে অজু করার ব্যবস্থা এবং ইসলামিক বইয়ের সমৃদ্ধ একটি তাক রয়েছে।

৩. জামে মসজিদ, কিনশিচো

টোকিও স্কাইট্রির মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার পর জেআর কিনশিচো স্টেশনের দক্ষিণ গেটের একদম কাছেই দেখা মিলবে এই জামে মসজিদ। সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে এই মসজিদ। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের আগে একজন জাপানি দারোয়ান এখানে আগত মুসল্লিদের স্বাগত জানান। বিশেষ বিশেষ দিনে এখানে বিরিয়ানিও পরিবেশন করা হয়। নতুন ইসলাম গ্রহণ করা জাপানিদের জন্য এখানে নিয়মিত ধর্মীয় আলোচনার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া পবিত্র রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থাও থাকে এই মসজিদে।

৪. দার আল তাকওয়া নিহন ইসলামিক বুনকা সেন্টার, ওজিমা

টোকিওর কোতো ওয়ার্ডের ওজিমা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। আবাসিক এলাকার একটি ছোট্ট গলির ভেতরে হওয়ায় গুগল ম্যাপের সাহায্য ছাড়া এখানে পৌঁছানো অসম্ভব। খুব সাধারণ সাজসজ্জার এই মসজিদের বাইরে অজু করার জন্য একটি বেসিন এবং জুতো রাখার তাক রয়েছে। মূলত এই এলাকায় কর্মরত অভিবাসী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা এশার নামাজের সময় এখানে বেশি সমবেত হন।

৫. মসজিদ আল ইখলাস, কাবুকিচো

টোকিওর রেড-লাইট ডিস্ট্রিক্ট বা নাইটলাইফের কেন্দ্রস্থল কাবুকিচোর ঠিক মাঝখানে একটি মসজিদ থাকবে, তা কল্পনা করাও কঠিন। তবে বাস্তব চিত্র হলো, এই এলাকার সাধারণ মুসলিম কর্মীদের জন্য আল ইখলাস মসজিদটি একটি পরম নির্ভরযোগ্য স্থান। আকারে ছোট হলেও অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন এই মসজিদে জুমার নামাজে মুসল্লিদের এত ভিড় হয় যে, অনেক সময় করিডোরেও কাতার সোজা করতে হয়। এখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা চমৎকার একটি কথা বলেন। তাদের মতে, পাপাচার ও অনৈতিকতার জন্য কুখ্যাত একটি এলাকার বুকেই আল্লাহর ঘর বা পবিত্র একটি স্থাপনা থাকার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।

সূত্র : টোকিও উইকেন্ডার

এনটি