বিজ্ঞাপন

বিচ্ছেদের অশ্রু পেরিয়ে যেভাবে উম্মুল মুমিনীন হলেন উম্মে সালামা (রা.)

বিচ্ছেদের অশ্রু পেরিয়ে যেভাবে উম্মুল মুমিনীন হলেন উম্মে সালামা (রা.)

মক্কার সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম ও বেড়ে উঠা উম্মে সালামা হিন্দ বিনতে আবি উমাইয়া আল-মাখজুমিয়ার। মুসলিমদের কাছে তিনি উম্মে সালামা (রা.) নামে পরিচিত। তার ছেলে সালামার নামের অনুকরণে এই নামে পরিচিতি পান তিনি।

স্বামীর সংসারে সুখেই ছিলেন উম্মে সালামা (রা.)। দুঃখ, কষ্ট দেখেননি কখনো। কিন্তু মুসলিম হওয়ার পর জীবনে নেমে এলো অমানিষা। চেনা জগত হয়ে উঠল অচেনা। মক্কায় মুসলিমদের ওপর দিন দিন অত্যাচার বাড়তে লাগলো। মহানবী (সা.) সবাইকে হিজরতের অনুমতি দিলেন

হিজরতের উদ্দেশ্যে স্বামী ও কোলের সন্তান নিয়ে মদিনার পথে রওয়ানা হলেন উম্মে সালামা (রা.)। বাহন হিসেবে সঙ্গে ছিল একটি উট। কোলের সন্তান নিয়ে তিনি বসেছিলেন উটের পিঠে। উটের লাগাম ধরে তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছিলেন স্বামী আবু সালামা (রা.)। 

এর আগে তারা হাবশায় হিজরত করেছিলেন। কিন্তু এবারের হিজরতের যাত্রা সহজ হলো না তাদের জন্য। কিছুদূর যেতেই বাধা দিলেন হজরত উম্মে সালামার পরিবার। তারা বলল, ‘আমরা আমাদের মেয়েকে এভাবে হিজরত করতে যেতে দিবো না।’ তারা জোরপূর্বক উম্মে সালামাকে (রা.)পিত্রালয়ে নিয়ে গেলেন। উম্মে সালামার (রা.) স্বামী আবু সালামার (রা.) পরিবার এসে তাদের নাতি সালামাকে নিয়ে গেলেন নিজেদের বাড়িতে।

স্ত্রী, সন্তান নিয়ে বের হয়েছিলেন হিজরতের জন্য। কিন্তু তাদের দু’জন দুদিকে। এদিকে মহানবী (সা.) সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন হিজরত করার। নিজের ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে পেরে না উঠে একাই মদিনার পথে রওয়ানা হলেন আবু সালামা (রা.)।

বাধ্য হয়ে বাবার বাড়িতে এলেও স্বামী-সন্তানের দূরত্বে ভেঙে পড়লেন উম্মে সালামা (রা.)। একা একা মক্কায় দিন কাটতে লাগলো তার। এক বছর এভাবে কাটলো। এই সময়ে প্রতিদিন বাড়ির বাইরে গিয়ে কান্না করতেন তিনি। তিনি নিজেই বলেছেন, আমি সকাল বেলা ঘর থেকে বেরিয়ে আবতাহ উপত্যকায় একটি টিলার ওপর বসে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাঁদতাম। এভাবে এক বছর পার হয়ে যায়।

এক বছরেও স্বামী-সন্তানের দূরত্ব মেনে নিতে না পারায় গোত্রের এক শুভাকাঙ্খী পরিবারের লোকদের কাছে তার হিজরতের জন্য সুপারিশ করলেন। এতোদিন পর পরিবারের মন নরম হলো। পরিবার তাকে হিজরতের অনুমতি দিল। এ খবর শুনে স্বামীর পরিবার শিশু সালামাকে ফিরিয়ে দিল তার কাছে।

তৎকালীন সমাজে নারীরা একাকী কোথাও বের হতেন না। কিন্তু পরিবারের কাছ থেকে হিজরতের অনুমতি পাওয়ার পর তিনি আর দেরি করলেন না। একাকী মক্কা থেকে তানইম পর্যন্ত পৌঁছালেন। 

তানইমে দেখা হলো উসমান ইবনে তালহার (রা.)-এর সঙ্গে। বীর ও সম্ভ্রান্ত পুরুষ হিসেবে সমাজে বেশ খ্যাতি ছিল তার। তিনি তখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি। কিন্তু একজন নারীকে একাকী সফর করতে দেখে অবাক হলেন এবং সব শুনে মদিনার কুবা এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে দিলেন উম্মে সালামাকে। পুরো পথে নিরাপত্তা দিলেন তাকে।

উম্মে সালামা (রা.) উঠে বসেছিলেন উটের পিঠে। উসমান ইবনে তালহার (রা.) উটের লাগাম ধরে উটের আগে আগে চলতে লাগলেন। কুবায় পৌঁছে বললেন, তোমার স্বামী এই পল্লীতে আছেন।এরপর উসমান ইবনে তালহা (রা.) মদিনার পথে যাত্রা করলেন। এই পল্লীতেই স্বামীকে পেয়ে গেলেন উম্মে সালামা (রা.)।

উম্মে সালামা (রা.) মদিনায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে শহীদ হন তার স্বামী আবু সালামা (রা.)। আবারও জীবনের গভীর সংকটে পড়েন তিনি। তবে আল্লাহর রহমত নেমে আসে তার জীবনে। আল্লাহর রাসূল (সা) তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তিনি হয়ে ওঠেন উম্মুল মুমিনীন। 

এনটি